ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে পুলিশ ধরলে ভয় পাবেন না! জেনে নিন আপনার ৩টি শক্তিশালী আইনি অধিকার

ভালোবাসার মরশুম কড়া নাড়ছে দরজায়। হাতে গোলাপ, চোখে রঙিন স্বপ্ন নিয়ে দম্পতিরা ভিড় জমাবেন পার্ক কিংবা শপিং মলে। কিন্তু এই রোমান্টিক আবহাওয়ায় অনেক সময়ই বাধা হয়ে দাঁড়ায় পুলিশের ‘মরাল পুলিশিং’। পুলিশের খাকি উর্দির হুমকি বা “বাড়ির ফোন নম্বর দাও” জাতীয় কথায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন প্রেমিক-প্রেমিকারা। কিন্তু ভালোবাসা দিবসে প্রিয়জনের সাথে সময় কাটানো কি সত্যিই কোনো অপরাধ?

ভারতীয় আইন অনুসারে, আপনি যদি প্রাপ্তবয়স্ক হন, তবে আপনার ইচ্ছামতো জীবনযাপন করার পূর্ণ স্বাধীনতা আপনার রয়েছে। পুলিশ প্রায়ই ‘অশ্লীলতা’র দোহাই দিয়ে দম্পতিদের হেনস্থা করে। আগে যা আইপিসি-র ২৯৪ ধারা ছিল, বর্তমানে তা ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ২৯৬ ধারায় রূপান্তরিত হয়েছে। এই আইন অনুযায়ী, জনসমক্ষে এমন কোনো ‘অশ্লীল কাজ’ করা অপরাধ যা অন্যের বিরক্তির কারণ হয়। তবে মনে রাখবেন, কেবল পার্কে পাশাপাশি বসে থাকা, কথা বলা বা হাত ধরা কোনোভাবেই অশ্লীলতার পর্যায়ে পড়ে না।

পুলিশের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে যা সাধারণ মানুষের জানা অত্যন্ত জরুরি। প্রথমত, কোনো স্পষ্ট অশ্লীল কাজ ছাড়া পুলিশ আপনাকে গ্রেপ্তার করতে পারে না। দ্বিতীয়ত, পুলিশ আপনাকে চড় মারতে, আপনার ফোন চেক করতে বা জোর করে আপনার পরিবারকে ফোন করতে বাধ্য করতে পারে না। যদি আপনি এবং আপনার সঙ্গী প্রাপ্তবয়স্ক হন, তবে কোনো পুলিশ আধিকারিক আপনার ওপর নৈতিক চাপ সৃষ্টি করার আইনি অধিকার রাখেন না।

তবে দম্পতিদেরও কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। পার্ক যেহেতু একটি সর্বজনীন স্থান, তাই সেখানে শালীনতার সীমা বজায় রাখা জরুরি। ‘পাবলিক ডিসপ্লে অফ অ্যাফেকশন’ (PDA) বা জনসমক্ষে অতিরিক্ত শারীরিক ঘনিষ্ঠতা এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। সর্বদা নিজের ফোনে আধার কার্ড বা বয়সের প্রমাণপত্রের ছবি রাখুন। যদি পুলিশ আপনাকে আটকায়, তবে উত্তেজিত না হয়ে শান্তভাবে প্রশ্ন করুন যে আপনি কোন আইন ভঙ্গ করেছেন। মনে রাখবেন, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS) অনুযায়ী, সূর্যাস্তের পর কোনো নারীকে গ্রেপ্তার করার ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম রয়েছে। নিজের অধিকার জানুন এবং আত্মবিশ্বাসের সাথে ভালোবাসার দিনটি উদযাপন করুন।