বিহার-ঝাড়খণ্ডের মাটির নিচে লুকানো ‘সাদা সোনা’! চীনের দাদাগিরি শেষ করতে ভারতের মাস্টারস্ট্রোক?

ভারত তথা বিশ্বের মানচিত্রে এবার এক অনন্য পালক যোগ করতে চলেছে বিহার ও ঝাড়খণ্ড। দুই রাজ্যের সীমান্তে মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা এক বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদের খোঁজ মেলায় শুরু হয়েছে ব্যাপক তোলপাড়। বিশেষজ্ঞরা একে বলছেন ‘সাদা সোনা’ বা রেয়ার আর্থ মিনারেলস (Rare Earth Minerals)। এই বিশেষ খনিজ সম্পদের সন্ধানে বিহারের নওয়াদা এবং ঝাড়খণ্ডের কোডারমা জেলায় বড় মাপের ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।
সম্প্রতি লোকসভায় এক প্রশ্নের উত্তরে পরমাণু শক্তি মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, পরমাণু খনিজ অধিদপ্তর (AMD) এই এলাকায় জি-৪ (G4) স্তরের রেডিওমেট্রিক ও ভূ-তাত্ত্বিক সমীক্ষা চালাচ্ছে। যদি এই সমীক্ষায় ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যায়, তবে খুব শীঘ্রই এখানে খনন কার্য শুরু হবে। বর্তমানে এই দুষ্প্রাপ্য খনিজগুলির জন্য ভারত মূলত চীনের ওপর নির্ভরশীল। বিশ্বের মোট পরিশোধিত রেয়ার আর্থ মিনারেলসের প্রায় ৯০ শতাংশই চীনের নিয়ন্ত্রণে। এর ফলে ভারতকে তাদের চাহিদার প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ আমদানি করতে হয়।
এই খনিজগুলি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? আধুনিক প্রযুক্তির যুগে স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, ইলেকট্রিক গাড়ির ব্যাটারি (EV), জেট ইঞ্জিন এবং উচ্চ প্রযুক্তির সমরাস্ত্র তৈরির জন্য এই খনিজ অপরিহার্য। গত বছর চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সংঘাতের কারণে ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সাপ্লাই চেইন নিয়ে সমস্যায় পড়েছিল। বিশেষ করে ভারতের গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি বড়সড় ধাক্কা খেয়েছিল। আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই খনিজের গুরুত্ব নিয়ে বারবার সরব হয়েছেন।
বর্তমানে রেয়ার আর্থ মিনারেলসের ভাণ্ডারের দিক থেকে ভারত বিশ্বে পঞ্চম স্থানে থাকলেও, উৎপাদনের নিরিখে আমাদের অংশীদারিত্ব ১ শতাংশেরও কম। যদি বিহার ও ঝাড়খণ্ডের এই এলাকা থেকে খনিজ উত্তোলন সম্ভব হয়, তবে তা ভারতের অর্থনীতিতে গেম-চেঞ্জার হিসেবে কাজ করবে। এটি কেবল আমদানির খরচই কমাবে না, বরং ভারতকে ‘আত্মনির্ভর’ হওয়ার পথে অনেক ধাপ এগিয়ে দেবে। এই খনিজ ভাণ্ডার আবিষ্কৃত হলে স্থানীয় কর্মসংস্থান এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়নেও এক নতুন বিপ্লব আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।