কর্মীদের প্রতি ভালোবাসার ছোঁয়া! ৩২ বছর পূর্তিতে কর্মীদের সোনায় মুড়িয়ে নজির গড়ল সিঙ্গাপুরের এক সংস্থা

একটি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের আসল পরিচয় কেবল তার মুনাফা নয়, বরং সেই মানুষগুলো— যারা দিনরাত এক করে সংস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যান। অধিকাংশ সংস্থায় কর্মীরা কেবল সংখ্যা হয়ে থেকে গেলেও, সিঙ্গাপুরের একটি খাদ্য বিপণন সংস্থা যা করল, তা কর্পোরেট জগতের চোখ খুলে দেওয়ার মতো। ৩২ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে তারা তাদের পুরনো কর্মীদের সম্মানিত করল খাঁটি সোনা দিয়ে।

সামান্য শুরু থেকে স্বপ্নের উড়ান
নব্বইয়ের দশকের শুরুতে পথ চলা শুরু হয়েছিল সাধারণ একটি ‘ভেজ রাইস স্টল’ দিয়ে। গত ৩২ বছরে কঠোর পরিশ্রমে সেই ছোট্ট স্টলটি আজ ডালপালা মেলেছে বিশাল মহীরুহে। বর্তমানে এই সংস্থার অধীনে রয়েছে:

১৬০টি রেস্তোরাঁ।

৩০টি কফি শপ।

১,০০০ জনেরও বেশি কর্মী।

পুরস্কার যখন খাঁটি সোনা
সংস্থাটি বিশ্বাস করে যে, তাদের এই আকাশছোঁয়া সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে কর্মীদের দীর্ঘ বছরের নিষ্ঠা। তাই ৩২ বছর পূর্তির বিশেষ দিনে তাঁরা কর্মীদের জন্য আয়োজন করেছিলেন অভিনব উপহারের:

১০ থেকে ১৪ বছর: যারা এক দশকের বেশি সময় দিয়েছেন, তাঁদের দেওয়া হয়েছে ২০ গ্রাম ওজনের খাঁটি সোনার স্মারক।

১৫ থেকে ১৯ বছর: এই অভিজ্ঞ কর্মীদের দেওয়া হয়েছে ২৫ গ্রাম ওজনের সোনার স্মারক।

২০ বছর বা তার বেশি: যারা দুই দশকের বেশি সময় ধরে সংস্থার পাশে রয়েছেন, তাঁদের গলায় পরানো হয়েছে ৩০ গ্রামের সোনার মেডেল।

ব্যয় হয়েছে সাড়ে ৩ কোটি টাকা
সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্তা থেকে শুরু করে সাধারণ কর্মী— যোগ্যতার নিরিখে নয়, বরং সংস্থার সাথে যুক্ত থাকার সময়ের নিরিখে এই সম্মান পেয়েছেন সবাই। এই পুরো আয়োজনে ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় সাড়ো ৩ কোটি টাকা খরচ করেছে সংস্থাটি। সিঙ্গাপুরের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক মহলে এখন এই সংস্থার উদারতা নিয়ে চর্চা তুঙ্গে।

সংস্থাটি প্রমাণ করে দিল, কর্মীরা কেবল বেতনভোগী শ্রমিক নন, তাঁরাই যে কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত মূলধন। তাঁদের এই সম্মান প্রদর্শন কেবল কর্মীদের মনোবল বাড়াবে না, বরং পেশাদার জগতে এক নতুন মাইলফলক হয়ে থাকবে।