কাঁটায় ঘেরা রাজসিংহাসন! ২০ লক্ষ কোটির ঋণের ফাঁসে তারেক রহমান, দেউলিয়া হওয়ার পথে বাংলাদেশ?

দীর্ঘ দুই দশক পর বাংলাদেশে ফিরছে বিএনপি জমানা। নির্বাচনের ট্রেন্ড বলছে, বিপুল জনসমর্থন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন তারেক রহমান। কিন্তু এই জয় কি কেবলই আনন্দের? রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তারেক রহমান যে সিংহাসনে বসতে চলেছেন, তা আসলে এক ‘ডুবন্ত জাহাজ’। বিদায়ী মুহাম্মদ ইউনূস প্রশাসন ও পূর্ববর্তী সরকারের ঋণের বোঝা এখন বাংলাদেশের গলার ফাঁস হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২০ লক্ষ কোটির ঋণের পাহাড়: গলার ফাঁস আরও টাইট!
বাংলাদেশের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি শিউরে ওঠার মতো। দেশের মোট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ এখন তিন বছরের জাতীয় বাজেটের সমান। প্রায় ২০ লক্ষ কোটি টাকার ঋণ মাথায় নিয়ে দেশ চালাতে হবে তারেক রহমানকে। অথচ আয়ের উৎস বলতে কেবল বস্ত্রশিল্প, যা গত ১৮ মাসে কার্যত পঙ্গু হয়ে গিয়েছে।

বস্ত্রশিল্পে বিপর্যয়: ২৫ হাজার কোটির অর্ডার বাতিল!
জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান ও দীর্ঘস্থায়ী আন্দোলনের জেরে বাংলাদেশের মূল আয়ের উৎস ‘গার্মেন্টস সেক্টর’ বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে।

লোকসান: গত ১৮ মাসে প্রায় ২৫ হাজার কোটির অর্ডার বাতিল হয়েছে।

প্রতিযোগী: বাংলাদেশের হাতছাড়া হওয়া অর্ডারের ভাগ দখল করেছে ভারত, মায়ানমার ও ভিয়েতনাম।

ট্রাম্পের শর্ত: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশের বস্ত্রশিল্পে ‘শূন্য শুল্ক’-এর ঘোষণা করলেও জুড়ে দিয়েছেন কঠিন শর্ত। বাংলাদেশকে আমেরিকার সুতো ও কাঁচামাল কিনতে হবে, যা টালমাটাল অর্থনীতির ওপর চাপ আরও বাড়াবে।

ইউনূস প্রশাসনের শেষ মুহূর্তের ঋণ-বোঝা
মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার বিদায়বেলায় ঋণের বোঝা আরও বাড়িয়ে দিয়ে গিয়েছে। ঢাকা ওয়াসার ২৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ অনাদায়ী থাকা সত্ত্বেও আরও ৭২১ কোটির নতুন প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে ৫৭১ কোটি টাকাই ঋণ নেওয়া হচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছ থেকে। এই ঋণের কিস্তি মেটানোর দায়ভার এখন পুরোটাই বিএনপি সরকারের ওপর।

অর্থনীতির সঙ্কটে দিশেহারা আমজনতা:
১. রাজস্ব ঘাটতি: টানা দু’বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম রাজস্ব আদায় হয়েছে।
২. প্রবাসী আয়: রেমিট্যান্স বা প্রবাসীদের পাঠানো টাকা কমেছে প্রায় ৭ শতাংশ।
৩. আইএমএফ-এর শর্ত: ঋণের টাকা শোধ করতে গিয়ে সামাজিক প্রকল্পগুলোতে কাটছাঁট করতে হয়েছে, যার ফলে নিত্যপণ্যের দাম আকাশছোঁয়া।
৪. চিনের ঋণ: চিনের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের চড়া সুদ মেটানো এখন সবথেকে বড় মাথাব্যথা।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করে এই অর্থনৈতিক মন্দা কাটানোই এখন তারেক রহমানের প্রধান চ্যালেঞ্জ। ওয়ারেন বাফেট বলেছিলেন, একটি আয়ের উৎসের ওপর দেশ চলতে পারে না— বাংলাদেশ সেই শিক্ষা না নেওয়ায় আজ এই চরম সঙ্কটের মুখে। এই পাহাড়প্রমাণ প্রতিকূলতা জয় করে তারেক রহমান বাংলাদেশকে কতটা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন, সেটাই এখন দেখার।