বিশেষ: কখন শুরু, কখন শেষ চতুর্দশী তিথি? জানুন শুভক্ষণ, শিবরাত্রির সম্পূর্ণ নির্ঘণ্ট

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে বছরের শ্রেষ্ঠ তিথি ‘মহাশিবরাত্রি’ আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। দেবাদিদেব মহাদেব ও দেবী পার্বতীর পবিত্র মিলনের এই দিনটি ঘিরে ভক্তদের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে। পুরাণ মতে, এই তিথিতেই পরম ব্রহ্ম শিব বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি করেছিলেন। বিশ্বাস করা হয়, ভক্তিভরে এদিন মহাদেবের আরাধনা করলে ভক্তের সমস্ত মনস্কামনা পূরণ হয় এবং জীবনের অন্ধকার কেটে যায়।
কবে ও কখন মহাশিবরাত্রির শুভ মুহূর্ত? (Subh Muhurat)
এ বছর মহাশিবরাত্রির তিথি নিয়ে অনেকের মনেই সংশয় ছিল। বিশদ পঞ্জিকা মতে, চলতি বছর ১৫ ফেব্রুয়ারি, রবিবার মহাশিবরাত্রি পালন করা হবে।
চতুর্দশী তিথি শুরু: ১৫ ফেব্রুয়ারি, বিকেল ৪টে ৪৮ মিনিট থেকে।
চতুর্দশী তিথি শেষ: ১৬ ফেব্রুয়ারি, সোমবার বিকেল ৫টা ৩২ মিনিট পর্যন্ত।
শাস্ত্র অনুযায়ী, শিবরাত্রির মূল পুজো নিশীথ কালে বা রাতে হওয়ায় ১৫ ফেব্রুয়ারি রবিবারই ব্রত পালনের শ্রেষ্ঠ দিন।
৪ প্রহরের পুজোর মাহাত্ম্য
মহাশিবরাত্রিতে চার প্রহরে পুজোর বিশেষ বিধান রয়েছে। এই চার প্রহরে মহাদেবকে ভিন্ন ভিন্ন উপাচারে অভিষেক করলে অশেষ পুণ্য লাভ হয়:
১. প্রথম প্রহর: দুধ দিয়ে অভিষেক।
২. দ্বিতীয় প্রহর: দই দিয়ে অভিষেক।
৩. তৃতীয় প্রহর: ঘি দিয়ে অভিষেক।
৪. চতুর্থ প্রহর: মধু দিয়ে অভিষেক।
কেন পালন করবেন এই ব্রত? (Significance)
‘শিবরাত্রি’ মানেই শিবের রাত। স্কন্দ পুরাণ অনুযায়ী, যজ্ঞের মধ্যে যেমন অশ্বমেধ এবং তীর্থের মধ্যে গঙ্গা শ্রেষ্ঠ, তেমনই ব্রতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো এই শিব চতুর্দশীর ব্রত। এই ব্রত পালন করলে একাধারে ধর্ম, অর্থ, কাম ও মোক্ষ— এই চতুর্বিধ ফল লাভ করা সম্ভব। বিশেষ করে যারা আধ্যাত্মিক উন্নতি ও মানসিক শান্তি খুঁজছেন, তাঁদের জন্য এই দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
বিশেষ টিপস: পুজোর সময় অবশ্যই শিবলিঙ্গে বেলপাতা ও অক্ষত অর্পণ করুন। ‘ওঁ নমঃ শিবায়’ মন্ত্র জপ করে এই মহাপুণ্য তিথিতে নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করুন।