পাকিস্তানে নিষিদ্ধ হয়েও রণবীরের জয়জয়কার! করাচির বাজারে চড়া দামে বিকছে ‘ধুরন্ধর’, কী এমন আছে এই ছবিতে?

সীমান্তের কাঁটাতার কি আর পর্দার ম্যাজিক রুখতে পারে? অভিনেতা রণবীর সিংয়ের সাম্প্রতিক স্পাই থ্রিলার ‘ধুরন্ধর’ (Dhurandhar) তার জলজ্যান্ত প্রমাণ। প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির সময় পাকিস্তান ও একাধিক উপসাগরীয় দেশে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল এই ছবিটিকে। কিন্তু ডিজিটাল দুনিয়ায় নেটফ্লিক্সে আসার পর থেকেই পাকিস্তানে ছবিটি নিয়ে তৈরি হয়েছে এক অভূতপূর্ব উম্মাদনা। এবার সেই উন্মাদনা সরাসরি করাচির পাইরেটেড বাজারেও আছড়ে পড়ল।
ইউটিউবার কার্ল রকের ক্যামেরায় ধরা পড়ল আসল ছবি
নিউজিল্যান্ডের বিখ্যাত ইউটিউবার কার্ল রক সম্প্রতি একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। সেখানে দেখা যাচ্ছে করাচির ব্যস্ত রেইনবো সেন্টারে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে পরিচালক আদিত্য ধরের এই স্পাই থ্রিলারের পাইরেটেড কপি। কার্ল ভিডিওতে দোকানদারকে বলতে শোনা যায়, “পাকিস্তানে তো ভারতীয় সিনেমা নিষিদ্ধ, কিন্তু দেখুন এখানে কী মিলছে! একদম লেটেস্ট ছবি, সরাসরি হিন্দুস্তান থেকে।”
দাম শুনে চোখ কপালে!
ভিডিওতে কার্ল যখন ওই পাইরেটেড কপির দাম জানতে চান, তখন বিক্রেতা জানান মাত্র ৫০ পাকিস্তানি রুপি (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৬ টাকা)। রণবীরের অ্যাকশন ও স্পাই ড্রামা দেখার জন্য পাকিস্তানি দর্শকরা এতটাই মুখিয়ে ছিলেন যে, এই সস্তা দামের কপিগুলো বাজারে আসার সাথে সাথেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। কার্ল নিজেও এই সস্তা দাম দেখে অবাক হয়ে বলেন, “বহুত সস্তা!”
কেন এই নিষিদ্ধ ছবি নিয়ে এত শোরগোল?
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে পাকিস্তানের প্রেক্ষাগৃহে ভারতীয় ছবি প্রদর্শিত হয় না। তবে রণবীর সিংয়ের মতো সুপারস্টারের ছবি এবং আদিত্য ধরের পরিচালনা দেখার জন্য পাকিস্তানি দর্শকরা বরাবরই ইউটিউব বা ওটিটি প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভর করেন। ‘ধুরন্ধর’-এর টানটান উত্তেজনা এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল চর্চার বিষয়। এমনকি ছবির দ্বিতীয় ভাগ দেখার জন্যও পাকিস্তানি দর্শকদের মধ্যে প্রবল আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।
প্রযুক্তি আর পাইরেসির যুগে কোনো নিষেধাজ্ঞাই যে সিনেমার দর্শককে আটকে রাখতে পারে না, রণবীরের ‘ধুরন্ধর’ যেন সেটাই আরও একবার প্রমাণ করল।