‘বন্দে মাতরম’ বনাম ‘জনগণমন’ সংঘাত! জাতীয় আবেগ উসকে কয়লা কেলেঙ্কারি ঢাকার চেষ্টা বিজেপির?

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের রণভেরি বাজতেই বাংলার রাজনীতিতে শুরু হয়েছে ‘আবেগ বনাম দুর্নীতির’ দ্বিমুখী লড়াই। একদিকে কেন্দ্রের নতুন নির্দেশিকা ঘিরে ‘বন্দে মাতরম’ বনাম ‘জনগণমন’ বিতর্ক, অন্যদিকে কয়লাকাণ্ডে এক প্রভাবশালী বিজেপি নেতার নাম জড়িয়ে যাওয়ার দাবি—এই দুই ইস্যুকে হাতিয়ার করে বুধবার গেরুয়া শিবিরকে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।

কয়লাকাণ্ডে ‘প্রোটেকশন মানি’র রহস্য: সম্প্রতি কয়লা পাচার মামলায় ইডির হাতে ধরা পড়েছেন চিন্ময় মণ্ডল ও কিরণ খাঁ। তৃণমূলের দাবি, ধৃতদের বয়ানে বিজেপির এক শীর্ষ নেতার নাম উঠে এসেছে। কুণালের অভিযোগ, কয়লা পাচারের কারবার নির্বিঘ্নে চালাতে ওই নেতাকে মাসে মাসে বিপুল অঙ্কের ‘প্রোটেকশন মানি’ দেওয়া হতো। খবর পাওয়া যাচ্ছে, সেই নেতা গ্রেফতারি এড়াতে দিল্লিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেছেন। কুণাল ঘোষের প্রশ্ন, “যাদের বিরুদ্ধে একসময় বিজেপিই চোর বলেছিল, তারা দলে যোগ দিতেই কি সাধু হয়ে গেল? ইডি কি এবার নিরপেক্ষ তদন্ত করবে, নাকি দিল্লির নেতারা সেই প্রভাবশালীকে রক্ষাকবচ দেবে?”

জাতীয় সংগীত বনাম জাতীয় গীত বিতর্ক: এই রাজনৈতিক ডামাডোলের মধ্যেই কেন্দ্রের নতুন নির্দেশিকা নিয়ে সরব হয়েছে তৃণমূল। কেন্দ্রের ফরমান অনুযায়ী, সরকারি অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীতের পাশাপাশি ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রথম ছ’টি স্তবক গাওয়া বাধ্যতামূলক। তৃণমূলের অভিযোগ, রবীন্দ্রনাথ ও বঙ্কিমচন্দ্রকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে বাঙালির আবেগে সুড়সুড়ি দিয়ে বিভাজনের রাজনীতি করছে বিজেপি।

কুণাল ঘোষ স্মরণ করিয়ে দেন যে, ‘বন্দে মাতরম’-এর ব্যবহার নিয়ে খোদ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিশেষ সুচিন্তিত মতামত ছিল। তাঁর কটাক্ষ, “বিজেপি কি নিজেদের রবীন্দ্রনাথের চেয়েও বড় ভাবছে? রবিঠাকুরের মতকে অগ্রাহ্য করে কি আরএসএস-এর ব্যাখ্যামূলক দেশপ্রেমই শেষ কথা হবে?” বিশ্লেষকদের মতে, কয়লাকাণ্ডের অস্বস্তি ঢাকতেই পরিকল্পিতভাবে এই জাতীয় আবেগের ইস্যু সামনে আনছে বিজেপি। সব মিলিয়ে ভোটের আগে বাংলার মাটি এখন দুর্নীতির অভিযোগ আর জাতীয়তাবাদের বিতর্কে উত্তপ্ত।