৯ বছর বেশি বাঁচতে চান? জীবনযাত্রায় আনুন এই সামান্য বদল; গবেষণায় উঠে এল দীর্ঘায়ুর আসল ম্যাজিক!

আমরা কতদিন বাঁচব, তা কি আমাদের হাতে? আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে—হ্যাঁ, অনেকটাই! জীবনধারা, খাদ্যাভ্যাস এবং ঘুমের অভ্যাসে সামান্য কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আনলে আপনার আয়ু একলাফে ৯.৩৫ বছর পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। সম্প্রতি বিখ্যাত গবেষণা জার্নাল ‘ল্যানসেট’-এ প্রকাশিত একটি রিপোর্টে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। বর্তমানে নগরায়ণ ও অলস জীবনযাত্রার কারণে ভারতে অসংক্রামক রোগ (NCD) যেমন ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের প্রকোপ বাড়ছে, যা রুখতে পারে এই নয়া জীবনশৈলী।
অল্প প্রচেষ্টায় দীর্ঘ আয়ু: গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যারা ঘুমের অভাবে ভোগেন বা শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয়, তারা যদি প্রতিদিন মাত্র ৫ মিনিট অতিরিক্ত ঘুম এবং ২ মিনিট পরিমিত ব্যায়াম করেন, তবেই তাঁদের জীবনে অতিরিক্ত এক বছর যুক্ত হতে পারে। তবে পূর্ণাঙ্গ সুফল পেতে প্রতিদিন ৪২ থেকে ১০৩ মিনিটের ব্যায়াম এবং ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম অপরিহার্য।
ব্যায়াম ও খাদ্যাভ্যাসের ‘গোল্ডেন রুল’:
-
শারীরিক কসরত: প্রতিদিন অন্তত ১০ মিনিটের তীব্র ব্যায়াম অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি ১৫ শতাংশ কমিয়ে দেয়। দ্রুত হাঁটা, জগিং বা সাইক্লিংয়ের মতো অ্যারোবিক ফিটনেসের পাশাপাশি পুশ-আপ বা স্কোয়াটের মতো শক্তি বর্ধক ব্যায়াম পেশি ও হাড় মজবুত রাখে।
-
খাদ্যাভ্যাস: আইসিএমআর-এর মতে, ৫৬.৬ শতাংশ রোগ সরাসরি খারাপ খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে যুক্ত। পাতে চিনির পরিমাণ কমানো এবং লবণ সীমিত করা জরুরি। প্রতিদিন অন্তত ৪০০-৬০০ গ্রাম ফল ও সবজি এবং ৩০০ মিলি দুধ শরীরে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের ঘাটতি মেটায়। অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার বা ‘আল্ট্রা-প্রসেসড ফুড’ এড়িয়ে চলাই সুস্থ থাকার চাবিকাঠি।
ঘুম যখন মহৌষধ: ঘুম কেবল বিশ্রাম নয়, এটি শরীরের সার্কাসিয়ান রিদম বা অভ্যন্তরীণ ঘড়িকে সচল রাখে। শোবার অন্তত এক ঘণ্টা আগে স্মার্টফোন বা গ্যাজেট থেকে দূরে থাকা এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বজায় রাখে ও ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমায়।