লটারি লাগল সরকারি কর্মীদের! ২০ হাজার থেকে বেতন একলাফে হবে ৫১ হাজার? সপ্তম পে কমিশনে তোলপাড় বাংলা

পশ্চিমবঙ্গের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২০২৬ সালের অন্তর্বর্তী বাজেট নিয়ে এল খুশির জোয়ার। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে রাজ্য সরকার অবশেষে সপ্তম বেতন কমিশন (7th Pay Commission) গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেছে। তাত্ত্বিকভাবে এই নতুন বেতন কাঠামো ১লা জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেন্দ্রীয় হারে বেতন বৃদ্ধি হলে রাজ্যের কর্মীদের বেতন এক ধাক্কায় দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারে।
বেতন কত বাড়তে পারে? (হিসাবের অঙ্ক): সপ্তম বেতন কমিশনে বেতন বৃদ্ধির চাবিকাঠি হলো ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’ (Fitment Factor)। কেন্দ্রীয় সরকার ২.৫৭ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ব্যবহার করেছিল। পশ্চিমবঙ্গ সরকারও যদি এই পথ অনুসরণ করে, তবে বেতন কাঠামোয় আমূল পরিবর্তন আসবে।
-
উদাহরণ: বর্তমানে ষষ্ঠ বেতন কমিশনে যার মূল বেতন (Basic Pay) ২০,০০০ টাকা, ২.৫৭ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর অনুযায়ী তাঁর নতুন মূল বেতন বেড়ে দাঁড়াতে পারে প্রায় ৫১,৪০০ টাকা।
ডিএ এবং ভাতার সমীকরণ: নতুন পে কমিশন ঘোষণার পাশাপাশি সরকার ৪ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা (DA) বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে, যা ১লা এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। এর ফলে রাজ্যের ডিএ ১৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ২২ শতাংশে পৌঁছাবে। তবে কর্মচারী সংগঠনগুলোর মধ্যে কিছুটা উদ্বেগও রয়েছে। কেন্দ্রের সঙ্গে ডিএ-র যে ৩৬ শতাংশ ফারাক রয়েছে, তা না মেটালে বেতন বৃদ্ধির প্রকৃত স্বাদ কর্মীরা পাবেন কি না, তা নিয়ে বিতর্ক চলছে।
পরবর্তী ধাপ কী? নবান্ন খুব শীঘ্রই কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নাম ঘোষণা করে বিজ্ঞপ্তি জারি করবে। এরপর জীবনযাত্রার মান ও বাজারদরের ওপর ভিত্তি করে ‘রোপা ২০২৬’ (ROPA 2026) প্রস্তাব করা হবে। অর্থ দপ্তরের চূড়ান্ত সিলমোহর পড়লেই বর্ধিত বেতন কর্মীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করবে। নির্বাচনের আগে রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ‘মাস্টারস্ট্রোক’ হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক মহল।