দার্জিলিং-কালিম্পং তো অনেক হলো! ডুয়ার্সের এই নির্জন গ্রামে মেঘেদের লুকোচুরি দেখেছেন কি?

ভ্রমণপিপাসু বাঙালির কাছে উত্তরবঙ্গ মানেই পাহাড়ের হাতছানি। তবে ভিড়ে ঠাসা দার্জিলিং বা কালিম্পং নয়, আজকের ঝোঁক বাড়ছে নির্জনতার দিকে। আপনি যদি শহরের ধুলো-ধোঁয়া আর যান্ত্রিকতা থেকে দূরে কোথাও কয়েকটা দিন কাটাতে চান, তবে ডুয়ার্সের ‘প্যারেন’ গ্রাম আপনার জন্য আদর্শ গন্তব্য। ইন্দো-ভুটান সীমান্তের একদম কোল ঘেঁষে অবস্থিত এই গ্রামটি যেন কোনো শিল্পীর তুলিতে আঁকা ছবি। নিস্তব্ধ গ্রাম্য জীবন আর সবুজের সমারোহ এখানে প্রতিটি বাঁকেই আপনাকে মুগ্ধ করবে।

কেন যাবেন প্যারেন? প্যারেনের মূল আকর্ষণ হলো এর অকৃত্রিম প্রকৃতি। পাহাড়ি ঝোরার শব্দ আর ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক এখানে আপনার একাকীত্বের সঙ্গী হবে। গ্রামের চারপাশ ঘিরে রয়েছে ঘন বনভূমি এবং ছোট ছোট পাহাড়ি নদী। কাছেই রয়েছে ছবির মতো ভ্যালি, যা আপনার চোখের আরাম দেবে। ঝর্ণার শীতল জল আর পাহাড়ের খাঁজে আটকে থাকা মেঘের মেলা—সব মিলিয়ে প্যারেন এক মায়াবী জায়গা। পর্যটকদের ভিড় কম থাকায় এখানে আপনি ডুয়ার্সের আসল বন্য রূপ এবং পাহাড়ি মানুষের সরল আতিথেয়তা উপভোগ করতে পারবেন।

যাতায়াত ও থাকার সুলুকসন্ধান: কলকাতা থেকে প্যারেনের দূরত্ব প্রায় ৬৫৫ কিলোমিটার। আপনি যদি ট্রেনে যেতে চান, তবে নিকটতম রেলস্টেশন হলো নিউ মাল জংশন বা মালবাজার। শিয়ালদহ বা হাওড়া থেকে ডুয়ার্সগামী যেকোনো ট্রেনে মালবাজার নামতে হবে। সেখান থেকে চালসা হয়ে শেয়ার বা রিজার্ভ করা জিপে পৌঁছে যাওয়া যায় এই স্বপ্নিল গ্রামে। পাহাড়ি রাস্তার মনোরম দৃশ্য আপনার ক্লান্তি ভুলিয়ে দেবে। থাকার জন্য এখানে বিলাসবহুল কোনো রিসর্ট না থাকলেও, রয়েছে চমৎকার সব হোমস্টে। পাহাড়ের ঢালে ছোট ছোট লজে স্থানীয় খাবারের স্বাদ নিতে নিতে দু-তিনটে দিন অনায়াসেই কাটিয়ে দেওয়া যায়। বিশেষ করে বর্ষাকালে প্যারেনের রূপ খোলতাই হয় সবথেকে বেশি, যদিও সারা বছরই এখানে আবহাওয়া মনোরম থাকে।