২০৪১-এর আগেই কি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হবে আসাম? হিমন্তের আশঙ্কাই কি সত্যি হচ্ছে? চূড়ান্ত তালিকায় শোরগোল

আসামের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হতেই দানা বাঁধছে নতুন বিতর্ক। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, রাজ্যের ৩৫টি জেলার মধ্যে মাত্র ১০টি জেলায় ভোটারের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, যার মধ্যে ৮টি জেলা ই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ। বরপেটা, ধুবড়ি, গোয়ালপাড়া, মরিগাঁও, নগাঁও, দক্ষিণ সালমারা, বোঙ্গাইগাঁও এবং হাইলাকান্দিতে ভোটারের এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা।
সবচেয়ে বেশি ভোটার বেড়েছে বরপেটায়, যেখানে খসড়া তালিকার তুলনায় ২৮,৬২৫ জন নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন। অন্যদিকে, উচ্চ আসামের মতো এলাকা, যেগুলোকে অসমীয়া সংস্কৃতির দুর্গ বলা হয়, সেখানে ভোটারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। যোরহাট, লখিমপুর ও গোলাঘাটের মতো জেলায় হাজার হাজার নাম বাদ পড়েছে। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী আসামে মুসলিম জনসংখ্যা ছিল ৩৪.২২ শতাংশ, কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা দাবি করেছেন বর্তমানে তা ৪০ শতাংশ ছাড়িয়েছে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে আসাম একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্যে পরিণত হতে পারে।
নির্বাচন কমিশন এই বিশেষ সংশোধনীর (SR) মাধ্যমে প্রায় ২.৪৩ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। বিরোধী দলগুলি এই প্রক্রিয়াকে ‘সংখ্যালঘু হয়রানি’ বলে কটাক্ষ করলেও, মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি জানিয়েছেন যে ‘মিয়া’ বা বাংলাভাষী মুসলিমদের অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতেই বিজেপি কর্মীরা লক্ষ লক্ষ অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। চূড়ান্ত তালিকায় এখন মোট ২.৪৯ কোটি ভোটার রয়েছেন, যা খসড়া তালিকার চেয়ে ০.৯৭ শতাংশ কম। এই পরিসংখ্যান আগামী দিনে আসামের রাজনীতিতে বড়সড় মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।