মহাশিবরাত্রি ২০২৬: জল ঢালার সেরা সময় কখন? এক ক্লিকেই জানুন পঞ্জিকা মতে শুভ মুহূর্ত ও নিয়মাবলী!

ফাল্গুন মাস মানেই বসন্তের আগমনী আর আধ্যাত্মিকতার ছোঁয়া। এই মাসের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ উৎসব হলো মহাশিবরাত্রি। হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী, বছরভর যত ব্রত পালিত হয়, তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো এই শিবরাত্রির ব্রত। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, নিষ্ঠাভরে এই ব্রত পালন করলে মানুষের জীবনের সমস্ত অন্ধকার ও অজ্ঞতা দূর হয় এবং পরম পুণ্য লাভ ঘটে। ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে দেবাদিদেব মহাদেব ও দেবী পার্বতীর বিবাহের পুণ্য তিথিকেই মহাশিবরাত্রি হিসেবে পালন করা হয়। এটি আসলে পুরুষ শক্তি এবং আদি মহাশক্তির মিলনের উৎসব।

ব্রত পালনের নিয়ম ও মাহাত্ম্য: শিবরাত্রির ব্রত পালনের নির্দিষ্ট কিছু আচার রয়েছে। ব্রতের আগের দিন সংযম পালন করে নিরামিষ আহার গ্রহণ করতে হয়। শিবরাত্রির দিন উপবাস থেকে চার প্রহরে চার বার শিবলিঙ্গে অভিষেক করার নিয়ম। গঙ্গাজল, দুধ, দই, ঘি এবং মধু দিয়ে মহাদেবকে স্নান করানো হয়। এরপর বেলপাতা, ধুতরো ফুল, আকন্দ, নীলকণ্ঠ এবং ঋতুফল অর্পণ করে ‘ওম নমঃ শিবায়’ মন্ত্র জপে মগ্ন হতে হয় ভক্তদের। পরের দিন অতিথি ভোজন ও পারণের মাধ্যমে এই কঠিন ব্রত সম্পন্ন হয়। মনে করা হয়, এই দিন শিবের আরাধনা করলে ভক্তের মনের সকল বাসনা পূর্ণ হয়।

২০২৬ সালের মহাশিবরাত্রির নির্ঘণ্ট: এ বছর মহাশিবরাত্রি কবে এবং কখন জল ঢালার সঠিক সময়, তা নিয়ে ভক্তদের মধ্যে বিশেষ কৌতূহল থাকে। পঞ্জিকা ভেদে সময়ের সামান্য পার্থক্য নিচে দেওয়া হলো:

বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে: চতুর্দশী তিথি শুরু হচ্ছে ২ ফাল্গুন (১৫ ফেব্রুয়ারি, রবিবার) বিকেল ৫টা ০৬ মিনিটে। এই তিথি সমাপ্ত হবে ৩ ফাল্গুন (১৬ ফেব্রুয়ারি, সোমবার) বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে।

গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা মতে: চতুর্দশী তিথি আরম্ভ হবে ১৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টে ৪৮ মিনিটে এবং শেষ হবে ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টা ৩২ মিনিটে।