রাশিয়ায় হোয়াটসঅ্যাপে ‘ডিজিটাল সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’! ১০ কোটি ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য কি বিপদে?

ইউক্রেন যুদ্ধ এবং আমেরিকার সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে এবার বড়সড় ‘ডিজিটাল স্ট্রাইক’ চালাল রাশিয়া। সে দেশে জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) সম্পূর্ণ ব্লক করার প্রস্তুতি নিয়েছে পুতিন সরকার। মেটা-র মালিকানাধীন এই অ্যাপটির দাবি, রাশিয়ার প্রায় ১০ কোটি ব্যবহারকারীকে ব্যক্তিগত এবং নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করে সরকারি নজরদারি অ্যাপের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সরকারি অ্যাপ ‘MAX’ নিয়ে বিতর্ক: রাশিয়া বর্তমানে নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ‘MAX’ নামক একটি মেসেজিং অ্যাপের প্রচার চালাচ্ছে। সমালোচক এবং পশ্চিমা দেশগুলির দাবি, এই অ্যাপটির মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের গতিবিধি এবং বার্তার ওপর সরাসরি নজরদারি চালাবে মস্কো। যদিও রুশ সংবাদমাধ্যম এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার এই প্রচেষ্টা একটি পশ্চাদপদ পদক্ষেপ।

ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণে মরিয়া মস্কো: ২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকেই বিদেশি টেক জায়ান্টদের সঙ্গে রাশিয়ার সংঘাত তুঙ্গে। গুগল, ফেসবুকের পর এবার হোয়াটসঅ্যাপকে নিশানায় নেওয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো ইন্টারনেটের ওপর রাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে, তারা রাশিয়ার ব্যবহারকারীদের সংযুক্ত রাখার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে, তবে সরকারি কড়াকড়িতে পরিষেবা সচল রাখা চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়ছে।