‘নো বোট, নো ভোট’! শেখ হাসিনার বয়কট ডাক কি মানবে তৃণমূল? ওপার বাংলায় নজরকাড়া সমীকরণ!

বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে এক নজিরবিহীন অধ্যায়ের সাক্ষী হতে চলেছে এবারের নির্বাচন। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মসনদে থাকা দল আওয়ামী লীগ আজ নির্বাচনী ময়দান থেকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন। নির্বাচন কমিশন দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পর এবারের লড়াইয়ে নেই কোনো ‘নৌকা’। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, দলের লক্ষ লক্ষ কর্মী-সমর্থক আজ কী করবেন? দলনেত্রী তথা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যেই অডিও বার্তায় ভোট বয়কটের ডাক দিয়েছেন, কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি কি সত্যিই তাঁর নির্দেশ মেনে চলবে?
রাজনৈতিক মহলে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে অন্য সুর। শেখ হাসিনা ‘নো বোট, নো ভোট’ স্লোগান দিয়ে সমর্থকদের ঘরে থাকার পরামর্শ দিলেও, কর্মীদের একাংশ আজ বুথমুখী হতে পারেন। এর নেপথ্যে রয়েছে বিচিত্র সব কারণ। বিশ্লেষকদের মতে, অনেকের ওপর মামলার খাঁড়া ঝুলছে, তাই এলাকায় নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতে বা প্রভাবশালী মহলের রোষ থেকে বাঁচতে তারা ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন। আবার কেউ কেউ প্রলোভনের ফাঁদে পা দিয়েও বুথে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
আওয়ামী লীগ কেন ভোট প্রক্রিয়ায় সরাসরি বাধা দিচ্ছে না, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, দলটির বর্তমান সাংগঠনিক কাঠামো কার্যত তছনছ হয়ে গেছে। যোগ্য নেতৃত্বের অভাব এবং কোনো রাজনৈতিক সহযোগীর সমর্থন না থাকায় রাজপথে আন্দোলনের শক্তি তারা হারিয়েছে। তাছাড়া, অতীতের হিংসাত্মক রাজনীতির দায় এড়াতে এবং আন্তর্জাতিক মহলে ভাবমূর্তি রক্ষায় তারা বিএনপি বা জামায়াতের মতো কঠোর বয়কট আন্দোলনের পথে হাঁটেনি। আওয়ামী সমর্থকদের বড় অংশের বিশ্বাস, এই নির্বাচনের মাধ্যমেই বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের পতন ঘটবে, যা তাদের নেতাদের কারামুক্তি ও মামলা থেকে নিষ্কৃতির পথ প্রশস্ত করবে।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেষ মুহূর্তে প্রাক্তন মন্ত্রী-সাংসদরা ভিডিও কলের মাধ্যমে সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে জল্পনা চলছে, যদি সমর্থকরা ভোট দেন, তবে কাকে দেবেন? অনেকের ধারণা, বিএনপি-জামায়াত বিরোধী নির্দল বা সংখ্যালঘু প্রার্থীদের দিকে ঝুঁঁকতে পারেন তারা। আবার ব্যালটে ‘না’ ভোটের কোনো সুযোগ থাকলে, সেখানেই ক্ষোভ উগরে দিতে পারেন আওয়ামী কর্মীরা। সব মিলিয়ে এক নিষিদ্ধ দলের নীরব উপস্থিতিই এখন বাংলাদেশের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় রহস্য।