৩৫০ এমপি কিন্তু ৩০০ আসনে ভোট! মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াই কীভাবে চলে বাংলাদেশ? জানুন প্রতিবেশী দেশের আজব নিয়ম

আজ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বাংলাদেশের ইতিহাসের এক সন্ধিক্ষণ। দীর্ঘ ১৫ বছরের শেখ হাসিনা শাসনের অবসানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অধীনে দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভারত ও পাকিস্তান—উভয় দেশই এই নির্বাচনের দিকে কড়া নজর রাখছে। তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, ভারত বা পাকিস্তানের মতো বাংলাদেশে কেন কোনো মুখ্যমন্ত্রী নেই? কেন সেখানে রাজ্য ব্যবস্থা নেই?
মুখ্যমন্ত্রী ছাড়া কেন চলে বাংলাদেশ? ভারত ও পাকিস্তান হলো ‘রাজ্যসমূহের ইউনিয়ন’ (Federal Structure), যেখানে প্রতিটি রাজ্যের আলাদা আইনসভা এবং মুখ্যমন্ত্রী থাকে। কিন্তু বাংলাদেশ একটি ‘এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র’ (Unitary State)। এখানে কোনো পৃথক রাজ্য বা প্রদেশ নেই। পুরো দেশটি সরাসরি কেন্দ্র থেকে পরিচালিত হয়। প্রশাসনিক সুবিধার জন্য দেশটিকে বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় ভাগ করা হলেও সেখানে কোনো মুখ্যমন্ত্রী বা রাজ্য সরকার থাকে না। ফলে সংসদ বা ‘জাতীয় সংসদ’-ই হলো দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী এবং প্রধানমন্ত্রীই হলেন একমাত্র নির্বাহী প্রধান।
৩৫০ সদস্যের সংসদে ভোট হয় ৩০০ আসনে! বাংলাদেশের সংসদীয় ব্যবস্থার একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর আসন বিন্যাস। মোট ৩৫০ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ৩০০ জন সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন। বাকি ৫০টি আসন শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত। তবে এই ৫০ জন সদস্যকে সাধারণ মানুষ সরাসরি ভোট দেয় না। নির্বাচনে প্রতিটি দল বা জোট যে কয়টি আসন পায়, তার আনুপাতিক হারে এই ৫০টি সংরক্ষিত আসন বণ্টন করা হয়। অর্থাৎ, নির্বাচিত ৩০০ এমপিরাই তাঁদের ভোট দিয়ে সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্যদের নির্বাচন করেন।