৫ বছরে ৫০০০ কোটি পাওয়ার সুযোগ! বাংলার জন্য কী কী ঘোষণা করলেন নির্মলা? জানলে চমকে যাবেন

কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ হওয়ার পর থেকেই শাসক-বিরোধীর রাজনৈতিক তর্জা তুঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘হাম্পটি-ডাম্পটি’ কটাক্ষ এবং ‘বাংলা বঞ্চিত’ অভিযোগের পালটা এবার কড়া ভাষায় জবাব দিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট করলেন, বাংলাকে কোনোভাবেই বঞ্চিত করা হয়নি, বরং একাধিক মেগা প্রকল্পের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি রাখা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী এদিন সরাসরি তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়কে আক্রমণ করে বলেন, “প্রফেসর সৌগত রায় বলছেন পশ্চিমবঙ্গের নাম বাজেটে নেওয়া হয়নি। তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছেন।” এরপরই তিনি পরিসংখ্যান ও প্রকল্পের খতিয়ান তুলে ধরে ব্যাখ্যা করেন যে, পূর্ব ভারতের উন্নয়নের চাবিকাঠি হিসেবে পশ্চিমবঙ্গকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বড় প্রাপ্তি: হাই-স্পিড ট্রেন ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডোর নির্মলা সীতারমণ জানান, কৌশলগত দিক থেকে পশ্চিমবঙ্গ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘ইস্ট কোস্ট ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডোর’ দুর্গাপুর ও আসানসোলকে ভিত্তি করেই গড়ে তোলা হবে। উত্তরবঙ্গের মানুষের জন্য বড় খবর দিয়ে তিনি বলেন, বারাণসী থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত হাই-স্পিড ট্রেন চালানো হবে এবং শিলিগুড়িকে একটি বড় ট্রানজিট হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

পাট ও চর্মশিল্পে স্বস্তি বাংলার ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত পাট ও চর্মশিল্পের জন্য বিশেষ ছাড়ের কথা মনে করিয়ে দেন অর্থমন্ত্রী। হুগলি বেল্টের চটকল ও পাট চাষিদের আর্থিক অবস্থার আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে নতুন প্রকল্প আনা হয়েছে। পাশাপাশি, চামড়া রফতানির ক্ষেত্রে ডিউটি ফ্রি সুবিধা দেওয়ায় বাংলার চর্মশিল্পীরা সরাসরি উপকৃত হবেন।

জঙ্গলমহল ও হলদিয়ার জন্য চ্যালেঞ্জ জঙ্গলমহলের বাসিন্দাদের জন্য স্বস্তির খবর শুনিয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, কেন্দু পাতার ওপর টিসিএস ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করা হয়েছে। এতে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও মেদিনীপুরের বিড়ি শ্রমিকরা সুবিধা পাবেন। অন্যদিকে, হলদিয়ার পাশে কেমিক্যাল পার্ক গড়ার প্রস্তাব দিয়ে তিনি রাজ্য সরকারকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, “আমরা তিনটি কেমিক্যাল পার্কের ঘোষণা করেছি। বাংলা কি সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে পারে না?”

সবশেষে তিনি জানান, কলকাতা, হাওড়া, আসানসোল বা দুর্গাপুরের মতো শহরগুলো ‘সিটি ইকোনমিক রিজিয়ন’ প্রকল্পের আওতায় এলে আগামী পাঁচ বছরে ৫০০০ কোটি টাকা পর্যন্ত পেতে পারে। এখন প্রশ্ন হলো, রাজ্য সরকার কি এই উন্নয়নের সুযোগ গ্রহণ করবে?