নিষিদ্ধ জইশের ‘উইমেন উইং’! রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্টে মাসুদ আজহারের নতুন ছক ফাঁস, কোণঠাসা ইসলামাবাদ

রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের (UNSC) ১২৬৭ নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণ কমিটির সাম্প্রতিক রিপোর্টে বড়সড় ধাক্কা খেল পাকিস্তান। এই প্রতিবেদনে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে যে, দিল্লির লালকেল্লায় হওয়া ভয়াবহ জঙ্গি হামলার নেপথ্যে ছিল পাকিস্তানভিত্তিক সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ (JeM)। একটি সদস্য রাষ্ট্রের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের জন্য এক বিশাল কূটনৈতিক জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছিল যে জইশ তাদের মাটিতে সক্রিয় নয়, কিন্তু রাষ্ট্রসংঘের এই নথি সেই দাবিকে নসাৎ করে দিল।
রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে জানানো হয়েছে, জইশ-ই-মহম্মদ কেবল ভারতেই সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ চালাচ্ছে না, বরং তারা নিজেদের শক্তি ও পরিধি আরও বাড়াচ্ছে। গত ৮ অক্টোবর জইশ প্রধান মৌলানা মাসুদ আজহার আলভি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জামাত-উল-মুমিনাত’ নামে একটি মহিলা শাখা গঠনের ঘোষণা করেছে। এর ঠিক পরেই ৯ নভেম্বর লালকেল্লায় হামলায় ১৫ জন নিহত হন, যার দায় জইশের ওপর বর্তেছে। পাকিস্তান এই রিপোর্টের বিরোধিতা করে দাবি করেছিল যে জইশ এখন ‘বিলুপ্ত’, কিন্তু অন্যান্য দেশ ভারতের অবস্থানকে সমর্থন করায় রিপোর্টে সংগঠনটির নাম বহাল রয়েছে।
অন্যদিকে, বালোচ লিবারেশন আর্মি (BLA)-কে আল-কায়দা বা তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের (TTP) সাথে যুক্ত করার পাক প্রচেষ্টা মুখ থুবড়ে পড়েছে। পাকিস্তান চেয়েছিল বিএলএ-কে ১২৬৭ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে, কিন্তু রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্টে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে বিএলএ-র সাথে আল-কায়দা বা আইএসআইএল-এর কোনও আদর্শগত যোগসূত্র নেই। যদিও চিন ও পাকিস্তানের যৌথ চাপে বিএলএ জঙ্গি তালিকায় রয়েছে, কিন্তু জইশ ও লস্করের ক্ষেত্রে চিনের দীর্ঘদিনের ‘ভেটো’ নীতির বিরুদ্ধে ভারতের লড়াই এই রিপোর্টের মাধ্যমে নতুন গতি পেল।