১২ ফেব্রুয়ারি কি ব্যাংক বন্ধ? দেশজুড়ে ধর্মঘটের ডাক, গ্রাহকদের জন্য বড় সতর্কবার্তা

যদি আজ আপনার ব্যাংকিং সংক্রান্ত কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকে, তবে বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে এই খবরটি আপনার জন্য অত্যন্ত জরুরি। আজ, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, দেশজুড়ে ব্যাংক কর্মচারীদের এক বিশাল ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সারা দেশে ব্যাংকিং পরিষেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক (RBI) এদিন কোনো সরকারি ছুটি ঘোষণা করেনি, তবুও প্রধান রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো ইতিমধ্যেই তাদের গ্রাহকদের সম্ভাব্য ভোগান্তি সম্পর্কে আগাম সতর্ক করে দিয়েছে।

কেন এই ধর্মঘট? এবারের ধর্মঘটের মূলে রয়েছে মূলত সরকারের নতুন শ্রম নীতি এবং কর্মীদের দীর্ঘদিনের কিছু অমীমাংসিত দাবি। এই আন্দোলনের নেতৃত্বে রয়েছে অল ইন্ডিয়া ব্যাংক এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন (AIBEA), অল ইন্ডিয়া ব্যাংক অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন (AIBOA) এবং ব্যাংক এমপ্লয়িজ ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (BEFI)-র মতো প্রভাবশালী সংগঠনগুলো। এছাড়া দশটি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নও এই ধর্মঘটকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে।

ইউনিয়নগুলোর মূল আপত্তির জায়গা হলো নভেম্বর মাসে সরকারের প্রস্তাবিত চারটি নতুন শ্রম আইন। তাদের দাবি, এই নতুন নিয়ম ২৯টি পুরনো শ্রম আইনকে সংশোধন করে কর্মীদের অর্জিত অধিকারকে খর্ব করছে এবং ইউনিয়ন গঠনের প্রক্রিয়াকে কঠিন করে তুলছে। পাশাপাশি, ব্যাংক কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে সপ্তাহে ‘৫ দিন কাজ’ (Five-day banking) এবং কর্মজীবনে ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য দাবি জানিয়ে আসছেন।

পরিষবায় কী প্রভাব পড়বে? ধর্মঘটের প্রভাবে ব্যাংক শাখাগুলোতে লেনদেন, চেক ক্লিয়ারেন্স এবং অন্যান্য কাউন্টার পরিষেবা ব্যাহত হতে পারে। স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (SBI) এবং ব্যাংক অফ বরোদার মতো শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকগুলো জানিয়েছে যে, তারা পরিষেবা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করলেও জনবল সংকটের কারণে কাজে দেরি হতে পারে। তবে স্বস্তির খবর এই যে, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, ইউপিআই (UPI) এবং মোবাইল অ্যাপের মতো ডিজিটাল পরিষেবাগুলো সচল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এটিএম পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে ব্যাংকগুলো সচেষ্ট থাকলেও নগদ টাকার যোগান নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।