কম্বোডিয়ার জঙ্গলে ভারতের ‘পুলিশ ফাঁড়ি’! ডিজিটাল অ্যারেস্টের হাড়হিম করা কারবার দেখে থতমত পুলিশ

কম্বোডিয়ার একটি পরিত্যক্ত কম্পাউন্ডের ভেতরে দেখা গেল মুম্বই পুলিশ এবং সিবিআই-এর (CBI) লোগো লাগানো সাইনবোর্ড। দুই পাশে মহাত্মা গান্ধী ও বি আর আম্বেদকরের ছবি, আর মাঝখানে সগর্বে উড়ছে ভারতের জাতীয় পতাকা। দৃশ্যটি দেখে ভারতের কোনো সরকারি দপ্তর মনে হলেও, আদতে এটি ছিল আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধীদের একটি ডেরা। কম্বোডিয়ার নম পেন-এ সক্রিয় এই চক্রটি ভারতীয়দের ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কাজ চালাত।
সম্প্রতি কম্বোডিয়া কর্তৃপক্ষ অনলাইন প্রতারণা রুখতে দেশজুড়ে বিশাল অভিযান শুরু করেছে। সরকারের সিনিয়র মন্ত্রী চ্ছায় সিনারিথ জানিয়েছেন, গত কয়েক সপ্তাহে প্রায় ১৯০টি এই ধরনের স্ক্যাম সেন্টার সিল করে দেওয়া হয়েছে। এই অভিযানে ১৭৩ জন রাঘববোয়ালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং প্রায় ১১,০০০ কর্মীকে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এই চক্রের মূল পান্ডা হিসেবে লি কুওং নামে এক চিনা বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ীর নাম উঠে এসেছে।
ভিয়েতনাম সীমান্তের কাছে কাম্পোট প্রদেশের একটি পরিত্যক্ত ক্যাসিনো কমপ্লেক্সে রয়টার্সের ক্যামেরায় ধরা পড়েছে জালিয়াতির ভয়ংকর সব সরঞ্জাম। সেখানে দেখা গেছে, জাল পুলিশ স্টেশন তৈরি করে রাখা হয়েছিল যাতে ভিডিও কলের মাধ্যমে ভারতীয়দের ভয় দেখানো যায়। সারিবদ্ধ কম্পিউটার এবং ডেস্কে রাখা নথিপত্র দেখে বোঝা গেছে, কীভাবে সুপরিকল্পিতভাবে থাইল্যান্ড ও ভারতের নাগরিকদের প্রতারণা করা হতো। পুলিশের দাবি, হাজার হাজার মানুষকে এখানে পাচার করে এনে অমানবিক পরিস্থিতিতে কাজ করানো হতো। প্রশাসনের কড়াকড়িতে বর্তমানে ৬ থেকে ৭ হাজার কর্মী ওই ডেরা ছেড়ে পালিয়েছেন। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে কম্বোডিয়া সরকার এখন এই অপরাধ নেটওয়ার্ক পুরোপুরি ধ্বংস করতে মরিয়া।