হাসিনা-পরবর্তী বাংলাদেশে প্রথম ভোট! ১০ লক্ষ সেনার পাহাড়ায় কার দিকে পাল্লা ভারী?

রক্তক্ষয়ী ছাত্র গণআন্দোলন এবং শেখ হাসিনার প্রায় ১৫ বছরের শাসনের অবসানের ১৮ মাস পর, এক নতুন ভোরের প্রত্যাশায় ভোট দিচ্ছে বাংলাদেশ। আজ বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, দেশজুড়ে ৩০০টি সংসদীয় আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে দেশের শাসনতান্ত্রিক সংস্কারের লক্ষ্যে ‘জুলাই চার্টার’ নিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে জাতীয় গণভোট।
নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা বাংলাদেশ: নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তত্ত্বাবধানে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ করতে দেশজুড়ে প্রায় ১০ লক্ষ নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব ও পুলিশ বাহিনীর সমন্বয়ে এক অভেদ্য নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। রাজধানী ঢাকার গুলশান মডেল স্কুলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে সকাল থেকেই ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। বিশেষ করে ১৮ থেকে ৩৭ বছর বয়সী ৪৪ শতাংশ তরুণ ভোটার এই নির্বাচনের গতিপথ নির্ধারণ করবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
মূল লড়াই ও রাজনৈতিক সমীকরণ: আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ায় এবারের লড়াই মূলত দ্বিমুখী। একদিকে রয়েছে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), যারা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবি করছে। অন্যদিকে, শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে জামায়াত-ই-ইসলামীর ১১ দলীয় জোট একটি শক্তিশালী বিকল্প শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, বিএনপি ৫৬ শতাংশ জনসমর্থন নিয়ে এগিয়ে থাকলেও, জামায়াত ও তরুণ নেতৃত্বের জোট তাদের কড়া টক্কর দিচ্ছে।
শেখ হাসিনার অবস্থান: ভারতে নির্বাসিত থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই নির্বাচনকে ‘বর্জনমূলক’ বলে সমালোচনা করেছেন। তবে আওয়ামী লীগ বিহীন এই নির্বাচনকে আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সংস্কারের এক বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামিকাল ১৩ ফেব্রুয়ারি সকালের মধ্যে চূড়ান্ত ফলাফল জানা যাবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।