উত্তর-পূর্বে কি নতুন রাজ্যের হাতছানি? মোদী সরকারের মাস্টারস্ট্রোক, বদলে যাচ্ছে ভারতের মানচিত্র!

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক মোড়! দীর্ঘ কয়েক দশকের আন্দোলন আর বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে স্বায়ত্তশাসন পেল পূর্ব নাগাল্যান্ড। গত ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬-এ ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার, নাগাল্যান্ড সরকার এবং পূর্ব নাগাল্যান্ড পিপলস অর্গানাইজেশন (ENPO)-এর মধ্যে একটি যুগান্তকারী ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
কী এই ‘ফ্রন্টিয়ার নাগাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অথরিটি’ (FNTA)? এই চুক্তির অধীনে পূর্ব নাগাল্যান্ডের ছয়টি জেলা— তুয়েনসাং, মন, কিফিরে, লংলেং, নোকলাক এবং শামাতোরকে নিয়ে গঠিত হয়েছে ‘ফ্রন্টিয়ার নাগাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অথরিটি’ (FNTA)। এটি একটি বিশেষ স্বায়ত্তশাসিত প্রশাসনিক ইউনিট। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা ভারতের ফেডারেল কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কেন এই স্বায়ত্তশাসনের লড়াই?
পূর্ব নাগাল্যান্ডের এই আন্দোলনের শিকড় অনেক গভীরে। ১৯৫৭ সালে এই অঞ্চলটি নেফা (NEFA) থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নাগাল্যান্ডের সাথে যুক্ত হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ ছিল, রাজ্যের রাজধানী কোহিমা থেকে এই অঞ্চলটি চিরকালই অবহেলিত থেকেছে। উন্নয়ন, শিক্ষা এবং পরিকাঠামোয় পিছিয়ে থাকা এই ছয়টি জেলার মানুষ ২০১০ সাল থেকে ‘সীমান্ত নাগাল্যান্ড’ নামে পৃথক রাজ্যের দাবি তুলে আসছিলেন। অবশেষে পৃথক রাজ্য না হলেও, পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন পেলেন তাঁরা।
চুক্তির বিশেষ দিক ও ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব:
-
সংবিধানের সুরক্ষা: কোনো নতুন সংশোধনী ছাড়াই সংবিধানের ৩৭১A অনুচ্ছেদের অধীনে এই বিশেষ সুরক্ষা প্রদান করা হয়েছে।
-
দশ বছরের অন্তর্বর্তী সময়কাল: চুক্তি অনুযায়ী, FNTA আগামী ১০ বছরের জন্য একটি বিশেষ অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার মধ্যে থাকবে।
-
মায়ানমার সীমান্তে নজর: ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে এই চুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মায়ানমার সীমান্তে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই অঞ্চলটি একটি ‘বাফার জোন’ হিসেবে কাজ করবে।
মণিপুরের ছায়া কি এখানেও?
তবে এই খুশির আবহেও কিছু প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মণিপুরের পার্বত্য অঞ্চল কমিটির (HAC) মতো এখানেও কি রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপ সংঘাত তৈরি করবে? মণিপুরে মেইতেই এবং কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে যে জাতিগত দাঙ্গা দেখা গিয়েছে, তার পুনরাবৃত্তি যাতে এখানে না হয়, সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে দিল্লিকে।
ভারতের মানচিত্রে উত্তর-পূর্বের এই অংশটি এতদিন অনেকটা ছিটকে পড়া টুকরোর মতো ছিল। কেন্দ্রীয় সরকারের এই পদক্ষেপে সেই ক্ষত কতটা উপশম হয়, এখন সেটাই দেখার। তবে আপাতত, পূর্ব নাগাল্যান্ডের ঘরে ঘরে এখন উৎসবের মেজাজ।