১৮ মাসের শাসনে বেসামাল বাংলাদেশ! দুর্নীতিতে বিশ্বতালিকায় অবনতি, ইউনূস ও তাঁর উপদেষ্টাদের সম্পদ বৃদ্ধির তথ্য ফাঁস

২০২৪ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাস অতিক্রান্ত। কিন্তু গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা থেকে প্রকাশিত দুটি পৃথক প্রতিবেদন সরকারের স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। গ্লোবাল ট্রান্সপারেন্সি এবং খোদ বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব পরিসংখ্যানে দাবি করা হয়েছে যে, এই সময়কালে বাংলাদেশে দুর্নীতির মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় অবনতি: ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ১৩টি সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় ঢুকে পড়েছে। গত বছর এই তালিকায় বাংলাদেশের স্থান ছিল ১৪তম। অর্থাৎ ইউনূস সরকারের আমলে এক বছরের ব্যবধানে দুর্নীতির হার আরও বেড়েছে। অথচ একই সময়ে প্রতিবেশী ভারতে দুর্নীতির গ্রাফ নিম্নমুখী। প্রতিবেদনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোতেও দুর্নীতি বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে একমাত্র ডেনমার্ক সবচেয়ে স্বচ্ছ দেশ হিসেবে চিহ্নিত।

উপদেষ্টাদের সম্পত্তির পাহাড়: সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য এসেছে বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব রিপোর্টে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, গত ১৮ মাসে মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর মন্ত্রিসভার ১৮ জন উপদেষ্টার ব্যক্তিগত সম্পদ গড়ে ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

  • মুহাম্মদ ইউনূস: তাঁর সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৬১ লক্ষ টাকারও বেশি।

  • আদিলুর রহমান: তাঁর মোট সম্পদ ৯৮ লক্ষ ২২ হাজার টাকা থেকে একলাফে বেড়ে ২৫ কোটি ২৯ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

  • বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার: তাঁর সম্পদও প্রায় ১.৫ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি নথিতে যে হিসেব দেওয়া হয়েছে, প্রকৃত সম্পদের পরিমাণ তার চেয়ে অনেক গুণ বেশি হতে পারে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই ‘সম্পদ বৃদ্ধি’ এবং দেশের ক্রমবর্ধমান দুর্নীতি নিয়ে এখন উত্তাল ঢাকা।