সংসদে রাহুলের ‘জুজুৎসু’ প্যাঁচ! ‘ভারত মাতাকে বিক্রি করছেন মোদী’, করলেন বিস্ফোরক দাবি

বুধবার লোকসভা এক অভূতপূর্ব রণক্ষেত্রের সাক্ষী থাকল। মার্শাল আর্ট ‘জুজুৎসু’-র প্যাঁচ থেকে শুরু করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতি— একের পর এক তির ছুড়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সরাসরি আক্রমণ করলেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর আক্রমণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, ট্রেজারি বেঞ্চের প্রতিবাদের মুখে স্পিকার জগদম্বিকা পাল রাহুলের একাধিক শব্দ সংসদীয় রেকর্ড থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন।
রাহুল গান্ধী এদিন প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করে অভিযোগ করেন যে, আমেরিকার সঙ্গে সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তিতে ভারত কার্যত ‘আত্মসমর্পণ’ করেছে। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী কি ভারতমাতাকে বিক্রি করতে লজ্জা পাচ্ছেন না? আমেরিকার সঙ্গে এই চুক্তি ১৪০ কোটি ভারতীয়র ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। জুজুৎসু বা জুডোর প্যাঁচের মতো গলা টিপে না ধরলে কেউ এভাবে আত্মসমর্পণ করে না।” রাহুলের এই ‘ননসেন্স’ শব্দ প্রয়োগ এবং ‘বিক্রি’ করে দেওয়ার অভিযোগে ফেটে পড়েন বিজেপি সাংসদরা।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ‘এপস্টিন ফাইল’ এবং আদানি-আম্বানি প্রসঙ্গ। রাহুল দাবি করেন, কুখ্যাত এপস্টিন ফাইলে নাম থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে সরকারি যোগসূত্র রয়েছে। তিনি সরাসরি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর নাম নিয়ে অভিযোগ তোলেন। স্পিকার জগদম্বিকা পাল বারবার তাঁকে বাধা দিয়ে বলেন, তথ্যপ্রমাণ ছাড়া কারও নাম নেওয়া সংসদীয় রীতির বিরোধী। এমনকি এপস্টিন, আদানি ও আম্বানি শব্দগুলি রেকর্ড থেকে মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু বলেন, “রাহুল গান্ধী ভিত্তিহীন অভিযোগ আনছেন। নরেন্দ্র মোদীর মতো শক্তিশালী প্রধানমন্ত্রী দেশ আগে কখনও দেখেনি। ২০১৪ সাল পর্যন্ত কংগ্রেস ভারতকে দুর্বল করে রেখেছিল, তাই আজ দেশের উন্নতি দেখে তারা ঈর্ষান্বিত।” বাদানুবাদের জেরে দীর্ঘক্ষণ ব্যাহত হয় অধিবেশন।