রায়পুরে আবাসন জালিয়াতি! কাগজে-কলমে ‘চাষের জমি’, বিল্ডার বিক্রি করে দিলেন প্লট; রেরার কোপে ‘আরম সিটি’

ছত্তিশগড়ের রায়পুরে আবাসন ব্যবসার আড়ালে বড় ধরনের আইনি কারসাজি ফাঁস হলো। বোরিয়াকলাস্থিত ‘আরম সিটি নেক্সট’ (Aram City Next) প্রজেক্টের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ছত্তিশগড় রিয়েল এস্টেট রেগুলেটরি অথরিটি (RERA)। তদন্তে দেখা গেছে, যে জমিকে আবাসিক প্লট হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে, সরকারি রেকর্ডে তা এখনও ‘কৃষি জমি’ হিসেবে নথিভুক্ত রয়েছে।
জালিয়াতির আসল ছক কী? অভিযোগ উঠেছে, ‘অনন্ত রিয়েলটি’-র প্রবর্তক নিশাত পাগারিয়া এবং শচীন বাফনা সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এই কারবার চালাচ্ছিলেন। ৪২টি আলাদা খতিয়ান নম্বরকে (খসরা) যুক্ত করে একটি নতুন নম্বর তৈরি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে উচ্চ আদালত ও অতিরিক্ত জেলাশাসক সেই সংযুক্তিকরণ বাতিল করে দিলেও, বাতিল হয়ে যাওয়া নম্বরের ওপর ভিত্তি করেই প্রজেক্টের লে-আউট এবং ডাইভারশন অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল।
রেরার কড়া পদক্ষেপ নথিপত্রে অসঙ্গতি এবং আইনি বিবাদ থাকায় রেরা এই প্রজেক্টের রেজিস্ট্রেশন স্থগিত করে দিয়েছে। এর ফলে:
-
প্রজেক্টের কোনো নতুন প্লট বিক্রি করা যাবে না।
-
কোনো ধরনের জমি রেজিস্ট্রি করা যাবে না।
-
প্রবর্তকরা ক্রেতাদের সাথে কোনো আর্থিক লেনদেন করতে পারবেন না।
ক্রেতাদের জন্য সতর্কবার্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃষি জমিকে আবাসিক হিসেবে কিনেছেন যারা, ভবিষ্যতে তারা বড় বিপদে পড়তে পারেন। এই জমিতে বাড়ি তৈরির অনুমতি মিলবে না এবং বিদ্যুৎ-জলের মতো নাগরিক সুবিধাও পাওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। তাই রায়পুরের এই প্রজেক্টে লগ্নি করার আগে ক্রেতাদের সতর্ক হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।