আইটি ইঞ্জিনিয়ার না কি মাস্টারমাইন্ড চোর? বিএমডব্লিউ চড়ে ২৬ বাড়িতে হানা, পুলিশের জালে ‘মাস্ক ম্যান

বিলাসবহুল জীবন, নামী ব্র্যান্ডের পোশাক আর দামি গাড়িতে চড়ে ঘোরা— বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই যে তিনি হায়দ্রাবাদের এক স্বনামধন্য আইটি কোম্পানির উচ্চপদস্থ ইঞ্জিনিয়ার। কিন্তু রাতের অন্ধকার নামলেই এই ‘ভদ্রলোক’ বদলে যেতেন এক দুর্ধর্ষ চোরে। বিশাখাপত্তনমে গত কয়েকমাসে ২৬টি বাড়িতে চুরির ঘটনায় জড়িত সেই আলোচিত ‘মাস্ক থিফ’ মহেশ রেড্ডি ওরফে সানিকে অবশেষে গ্রেপ্তার করল পুলিশ।
আইটি পেশার আড়ালে অন্ধকার জগত স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী মহেশ রেড্ডি পেশায় একজন সফল সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। ভালো বেতন পাওয়া সত্ত্বেও তাঁর ছিল রাজকীয় জীবনযাপনের অদম্য নেশা। অভিযোগ, হায়দ্রাবাদে চাকরি করার ফাঁকে তিনি মাঝেমধ্যেই বিশাখাপত্তনমে আসতেন এবং সিসিটিভি ফাঁকি দিতে মুখে মাস্ক ও হাতে গ্লাভস পরে একাই অপারেশন চালাতেন। গত চার মাস ধরে পুলিশ তাঁকে খুঁজছিল। অবশেষে গাজুওয়াকা এলাকার একটি চুরির তদন্ত করতে গিয়ে এই ‘ইঞ্জিনিয়ার চোর’-এর হদিশ পায় পুলিশ।
চুরির টাকায় BMW ও বন্ধুদের নিয়ে পার্টি পুলিশি জেরায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। মহেশ রেড্ডি চুরির টাকা দিয়ে একটি দামী বিএমডব্লিউ (BMW) গাড়ি কিনেছিলেন। শুধু তাই নয়, বড় বড় হোটেলে বন্ধুদের নিয়ে দামী মদের পার্টিও দিতেন তিনি। তাঁর কাছ থেকে পুলিশ ৬৯৯ গ্রাম সোনা এবং প্রায় ৩.৮ কেজি রূপো উদ্ধার করেছে। এছাড়া অপরাধে ব্যবহৃত ড্রিল মেশিন, কাটার ও বিএমডব্লিউ গাড়িটিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
পুরনো অপরাধী ও জেলবাস তদন্তে জানা গেছে, মহেশ রেড্ডি এই পথে নতুন নন। কিশোর বয়স থেকেই তিনি অপরাধের সঙ্গে যুক্ত এবং এর আগে ৬০টিরও বেশি চুরির মামলা রয়েছে তাঁর নামে। এর আগেও তিনি জেল খেটেছেন, কিন্তু মুক্তি পাওয়ার পর ফের ইঞ্জিনিয়ারিং পেশার আড়ালে এই কুকীর্তি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। বর্তমানে পুলিশ তাঁকে রিমান্ডে নিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।