মৃত্যুফাঁদ দিল্লি-এনসিআর! যুবরাজ থেকে বিরজু—সিস্টেমের ভুলে আর কত প্রাণ যাবে ম্যানহোলে?

রাজধানী দিল্লি ও সংলগ্ন এনসিআর এলাকা এখন সাধারণ মানুষের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে তিনটি ভিন্ন স্থানে গর্তে পড়ে তিনজনের মৃত্যুর ঘটনা প্রশাসনের চূড়ান্ত গাফিলতিকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। যুবরাজ মেহতা, কমল ধ্যানি কিংবা বিরজু—নামগুলো আলাদা হলেও তাঁদের পরিণতির গল্পটা একই। আর তা হলো সরকারি ব্যবস্থার চরম অবহেলা।

পরপর তিনটি মর্মান্তিক ঘটনা সবচেয়ে সাম্প্রতিক ঘটনাটি ঘটেছে দিল্লির রোহিণী সেক্টর ৩২ এলাকায়। সেখানে একটি খোলা নর্দমার ম্যানহোলে পড়ে মৃত্যু হয়েছে বিরজু নামের এক যুবকের। সোমবার রাতে পড়ে যাওয়ার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। এর ঠিক কয়েকদিন আগে ৬ ফেব্রুয়ারি জনকপুরীতে বাইক নিয়ে ওয়াটার বোর্ডের গর্তে পড়ে প্রাণ হারান ব্যাংক কর্মচারী কমল ধ্যানি। তারও আগে ১৬ জানুয়ারি নয়ডার সেক্টর ১৫০-এ সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার যুবরাজ মেহতা একটি নির্মাণাধীন বেসমেন্টে জমে থাকা জলে ডুবে মারা যান।

তদন্তে উঠে আসছে রহস্য রোহিণীর বাসিন্দা বিরজু পেশায় ছিলেন একজন কাঠমিস্ত্রি। আদতে বিহারের বাসিন্দা এই যুবকের মৃত্যুতে এখন দানা বাঁধছে রহস্য। নিহতের বন্ধু রামের দাবি অনুযায়ী, ঘটনার সময় বিরজুর সঙ্গে থাকা সুরজ নাম এক ব্যক্তি পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। সুরজ প্রথমে দাবি করেন বিরজুকে অপহরণ করা হয়েছে, কিন্তু পরে জেরার মুখে স্বীকার করেন যে তিনি নর্দমায় পড়ে গেছেন। সুরজের শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকায় এটি ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে হত্যাকাণ্ড কি না, তা খতিয়ে দেখছে দিল্লি পুলিশ।

প্রশাসনের কুম্ভকর্ণের ঘুম মর্মান্তিক বিষয় হলো, বিরজুর মৃত্যুর ঠিক পরেই রাতারাতি ওই এলাকার সমস্ত খোলা ম্যানহোল ঢেকে দেওয়া হয়। প্রশ্ন উঠছে, এই তৎপরতা যদি আগে দেখানো হতো, তবে কি বিরজুকে অকালে চলে যেতে হতো? প্রশাসনিক উদাসীনতা কি কেবল মানুষের মৃত্যুর পরই শেষ হবে? সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কি কেবলই কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকবে—দিল্লি এখন এই উত্তরই খুঁজছে।