মেয়ের সামনেই বাবাকে পিষে দিল ট্রাক! দুর্ঘটনা না কি রাজনৈতিক চক্রান্ত? জলপাইগুড়িতে উত্তপ্ত জনতা-পুলিশ সংঘর্ষ

জলপাইগুড়িতে পথ দুর্ঘটনায় তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলের ব্লক সভাপতি লুৎফর রহমানের (৪৮) মর্মান্তিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এলাকা। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ টিউশন থেকে মেয়েকে নিয়ে বাইকে করে বাড়ি ফিরছিলেন লুৎফরবাবু। গোশালামোড় এলাকায় জাতীয় সড়কে একটি দ্রুতগামী ঘাতক ট্রাক পেছন থেকে তাঁদের বাইকে সজোরে ধাক্কা মারে। দুর্ঘটনায় লুৎফরবাবুর ১৪ বছর বয়সী কন্যা ছিটকে পড়লেও, তিনি নিজে বাইকসহ ট্রাকের নিচে আটকে যান। অভিযোগ, চালক ট্রাক না থামিয়ে লুৎফরবাবুকে প্রায় এক কিলোমিটার টেনে নিয়ে যায়।

অসম মোড় এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা ট্রাকটি আটকে লুৎফর রহমান ও তাঁর মেয়েকে উদ্ধার করে জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা লুৎফরবাবুকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর কন্যার অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই উত্তেজিত জনতা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করে। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে একাধিক পুলিশ ভ্যানে ভাঙচুর চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

তৃণমূল নেতা অজয় সাহার দাবি, লুৎফর রহমান এলাকায় প্রতিবাদী মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ফলে এটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত কোনো অন্তর্ঘাত বা চক্রান্ত, তা নিয়ে সন্দেহ দানা বেঁধেছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শৌভনিক মুখোপাধ্যায় স্বীকার করেছেন যে, রাত ৮টার পর গোশালা মোড়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ট্রাফিক পুলিশ না থাকাটা বড় বিচ্যুতি। পুলিশ ঘাতক ট্রাকটিকে আটক করেছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে।