বুরারি কাণ্ডের ছায়া মথুরায়! একই পরিবারের ৫ জনের রহস্যমৃত্যু, দেওয়ালের লেখায় ঘনীভূত রহস্য

দিল্লির বুরারি কাণ্ডের সেই হাড়হিম করা স্মৃতি যেন ফিরে এল উত্তরপ্রদেশের মথুরায়। মঙ্গলবার একটি গ্রাম্য এলাকা থেকে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের নিথর দেহ উদ্ধার হয়েছে। মৃতদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রী ছাড়াও রয়েছে তাদের তিন নাবালক সন্তান। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া একটি সুইসাইড ভিডিও এবং দেওয়ালের লেখা বার্তা এই ঘটনাকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।

ভিডিও বার্তায় শেষ ইচ্ছা মৃত্যুর আগে রেকর্ড করা একটি ভিডিওতে পরিবারের কর্তা মণীশ কুমারকে বলতে শোনা গিয়েছে, “আমরা নিজেদের ইচ্ছায় মরছি। এর জন্য কেউ দায়ী নয়। পুলিশ যেন কাউকে বিরক্ত না করে। আমি খুব অশান্তিতে ছিলাম।” মণীশ আরও জানান, সম্প্রতি তিনি ১২ লক্ষ টাকায় একটি জমি বিক্রি করেছিলেন এবং সেই ক্রেতার বিরুদ্ধেও তার কোনো অভিযোগ নেই। ঘরের দেওয়ালে লেখা ছিল, “আমরা, মণীশ এবং সীমা, নিজেদের ইচ্ছায় প্রাণ দিচ্ছি।”

ময়নাতদন্তের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রাথমিকভাবে মনে করা হয়েছিল দুধে বিষ মিশিয়ে পরিবারের সবাই আত্মহত্যা করেছেন, কারণ দেহের পাশ থেকে দুধের গ্লাস উদ্ধার হয়েছিল। কিন্তু ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পুলিশের সামনে এক হাড়হিম করা তথ্য তুলে ধরেছে। সিনিয়র সুপারিন্টেন্ডেন্ট অফ পুলিশ (SSP) শ্লোক কুমার জানিয়েছেন, মণীশ নিজে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গিয়েছেন, তার স্ত্রী সীমা গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এবং তাদের তিন সন্তান—হানি (৮), প্রিয়াংশী (৫) ও প্রতীককে (৩) শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে।

যেভাবে প্রকাশ্যে এল ঘটনা মঙ্গলবার সকালে মণীশের বাড়ির কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। ছোট ছোট শিশুরা খেলতে না বেরোনোয় মণীশের ভাই জানলা দিয়ে দেখার চেষ্টা করেন। কোনো নড়াচড়া না দেখে দেওয়াল ভেঙে ঘরে ঢুকে তিনি দেখেন, সবাই নিথর হয়ে পড়ে আছেন। পুলিশ ডায়েরির পাতা এবং ভিডিও বার্তা খতিয়ে দেখে নিশ্চিত হতে চাইছে কেন সচ্ছল হওয়া সত্ত্বেও এই চরম পথ বেছে নিলেন মণীশ।