সংসদে তুলকালাম! স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা, বুধবার বাজেট বিতর্কে মোদীকে রুখতে রণংদেহি রাহুল!

নজিরবিহীন সংঘাতের আবহে উত্তপ্ত ভারতের সংসদ। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে বিরোধীদের আনা অনাস্থা প্রস্তাবের পর নাটকীয় মোড় নিল বাজেট অধিবেশন। উচ্চ নৈতিকতার দোহাই দিয়ে স্পিকার ওম বিড়লা জানিয়ে দিয়েছেন, যতক্ষণ না এই প্রস্তাবের নিষ্পত্তি হচ্ছে, ততক্ষণ তিনি স্পিকারের আসনে বসবেন না। এই অচলাবস্থার মাঝেই আজ বুধবার লোকসভায় বাজেট বিতর্কে অংশ নিতে চলেছেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। দুপুর ১২টা নাগাদ তাঁর ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে, যা ঘিরে রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে।
মঙ্গলবার থেকেই সংসদের পরিস্থিতি ছিল অগ্নিগর্ভ। কংগ্রেসের অভিযোগ, স্পিকার নিরপেক্ষভাবে সংসদ পরিচালনা করছেন না এবং বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করছেন। প্রায় ২০-২৫ জন কংগ্রেস সাংসদ স্পিকারের চেম্বারে ঢুকে বিক্ষোভ দেখান বলেও শাসক শিবিরের তরফে দাবি করা হয়েছে। সংসদীয় কার্যবিধি অনুযায়ী, স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা পড়ার পর বিড়লা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে তিনি আপাতত স্পিকারের দায়িত্ব থেকে নিজেকে দূরে রাখবেন। এদিকে গত ২রা ফেব্রুয়ারি থেকে চলা অচলাবস্থা কাটিয়ে অবশেষে মঙ্গলবার বিকেল থেকে বাজেট আলোচনা শুরু হয়েছে। শশী থারুরের বক্তব্যের মাধ্যমে এই বিতর্কের সূচনা হয়।
অন্যদিকে, সংসদের অভ্যন্তরেই পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে কেন্দ্রের বঞ্চনার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদের প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেন, মোদী সরকার পশ্চিমবঙ্গের জন্য রেকর্ড ১৪,২০৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। ইউপিএ আমলের তুলনায় এই বরাদ্দ কয়েক গুণ বেশি। রেলমন্ত্রী উল্টে অভিযোগ করেন যে, অনেক রেল প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অসহযোগিতার কারণে আটকে রয়েছে। আজ রাহুল গান্ধীর ভাষণে আদানি ইস্যু থেকে শুরু করে সিএএ এবং সেনাপ্রধানের স্মৃতিকথা সংক্রান্ত বিতর্ক উঠে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, বুধবারের সংসদীয় অধিবেশন এক বড়সড় সংঘাতের সাক্ষী হতে চলেছে।