সংসদে নজিরবিহীন ‘গুন্ডামি’! স্পিকারকে অকথ্য গালিগালাজ কংগ্রেস সাংসদদের? প্রিয়াঙ্কা-রাহুলকে নিয়ে বিস্ফোরক রিজিজু

সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে বুধবার এক কালো দিন হিসেবে চিহ্নিত হলো। কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু কংগ্রেস সাংসদদের বিরুদ্ধে লোকসভা স্পিকারের সাথে চরম দুর্ব্যবহার এবং অভব্য আচরণের গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। রিজিজুর দাবি, প্রায় ২০-২৫ জন কংগ্রেস সাংসদ জবরদস্তি স্পিকারের চেম্বারে ঢুকে পড়েন এবং তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। আরও চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরার সামনেই এই ঘটনা ঘটেছে এবং তাঁরা সাংসদদের থামানোর বদলে উসকে দিচ্ছিলেন।

এই ঘটনার জেরে সংসদ চত্বরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কিরেন রিজিজু বলেন, “স্পিকার অত্যন্ত নরম স্বভাবের মানুষ এবং তিনি এই ঘটনায় গভীরভাবে মর্মাহত। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে পদদলিত করে যেভাবে সংসদীয় মর্যাদাকে ধুলোয় মেশানো হয়েছে, তা ক্ষমার অযোগ্য।” বিজেপি নেতৃত্ব এই ঘটনাকে কংগ্রেসের ‘হতাশা’ এবং সংসদীয় কাজ ব্যাহত করার সুপরিকল্পিত কৌশল হিসেবে দেখছে।

অন্যদিকে, লোকসভা স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিশ জমা দিয়েছে বিরোধী জোটের ১১৮ জন সাংসদ। তাঁদের মূল অভিযোগ, বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবে বলতে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং স্পিকার পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছেন। এই অনাস্থা প্রস্তাব জমা পড়ার পর ওম বিড়লা নৈতিকতার খাতিরে নিজেকে কক্ষের কার্যক্রম থেকে সরিয়ে নিয়েছেন। যতক্ষণ না এই প্রস্তাবের ফয়সালা হচ্ছে, ততক্ষণ তিনি স্পিকারের আসনে বসবেন না বলে জানিয়েছেন। বাজেট অধিবেশনের মাঝে এই নজিরবিহীন সংঘাত ভারতীয় রাজনীতিতে এক বড়সড় মোড় আনতে চলেছে।