‘আমেরিকা আমাদের টয়লেট পেপারের মতো ব্যবহার করে ছুড়ে ফেলেছে!’ পাক সংসদে দাঁড়িয়ে বিষ্ফোরক খাজা আসিফ

পাকিস্তানের রাজনীতিতে আছড়ে পড়ল এক বিশাল বিতর্ক। দীর্ঘ কয়েক দশকের বিদেশনীতি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণকে কার্যত ধুলোয় মিশিয়ে দিলেন খোদ পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। পাক সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি স্বীকার করেছেন যে, আমেরিকা তার নিজস্ব ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য ইসলামাবাদকে কেবল ব্যবহার করেছে। অত্যন্ত কড়া ভাষায় আসিফ বলেন, “আমেরিকা আমাদের টয়লেট পেপারের চেয়েও খারাপভাবে ব্যবহার করে প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে আস্তাকুঁড়ে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে।”

আসিফ তাঁর বক্তৃতায় অতীতের ভুলগুলোকে জনসমক্ষে তুলে ধরেন। বিশেষ করে ১৯৯৯ সালের পরবর্তী সময়ে এবং ২০০১-এর ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে’ পাকিস্তানের যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে তিনি একটি ভয়াবহ ঐতিহাসিক ভুল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তাঁর মতে, তৎকালীন সামরিক শাসক পারভেজ মোশারফ এবং তারও আগে জিয়া-উল হক পাকিস্তানকে অন্যের যুদ্ধে জড়িয়ে দেশের অপূরণীয় ক্ষতি করেছেন। এই যুদ্ধের ফলে পাকিস্তান মৌলবাদ, অর্থনৈতিক বিপর্যয় এবং সহিংসতার এমন এক জালে জড়িয়ে পড়েছে, যা থেকে কয়েক দশক পরেও বের হওয়া সম্ভব হয়নি।

সবথেকে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, আসিফ এবার ‘জিহাদ’ নিয়ে সরকারি বয়ানকেও চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। তিনি সরাসরি স্বীকার করেছেন যে, আফগান যুদ্ধে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ কোনো ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা ছিল না, বরং তা ছিল আমেরিকান স্বার্থের বাস্তবায়ন। তিনি বলেন, “জিহাদের পতাকাতলে সাধারণ মানুষকে একত্রিত করে যুদ্ধের আগুনে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল, যা ছিল সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর।” তাঁর মতে, এই যুদ্ধগুলিকে বৈধতা দিতে পাকিস্তানের শিক্ষা ব্যবস্থাকেও বিকৃত করা হয়েছিল, যার বিষময় ফল আজও দেশ বহন করছে। পাকিস্তানের এই ‘পাপ স্বীকার’ এখন আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।