রণক্ষেত্র আলবেনিয়ার রাজধানী! পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, জ্বলছে রাজপথ

আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানা এখন কার্যত যুদ্ধক্ষেত্র। মঙ্গলবার রাতে মধ্য তিরানায় কয়েক হাজার বিরোধী সমর্থকের প্রতিবাদ মিছিলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস এবং জলকামান ব্যবহার করলে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে একের পর এক মোলোটভ ককটেল (পেট্রোল বোমা) এবং ফ্লেয়ার ছুঁড়লে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় রাজপথ। পুলিশ জানিয়েছে, এই সংঘর্ষে ১৬ জন বিক্ষোভকারী দগ্ধ ও গুরুতর জখম হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী এডি রামার সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ জমছিল। বিশেষ করে উপ-প্রধানমন্ত্রী বেলিন্ডা বাল্লুকু-এর বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের পর পদত্যাগের দাবি আরও জোরালো হয়েছে। বাল্লুকু আলবেনিয়ার জ্বালানি ও পরিকাঠামো মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। দুর্নীতিবিরোধী প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, তিনি সরকারি নির্মাণ প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করে নির্দিষ্ট কিছু সংস্থাকে অনৈতিক সুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন। বাল্লুকুর বিচার শুরু করার জন্য তাঁর আইনি রক্ষাকবচ বা ‘ইমিউনিটি’ প্রত্যাহারের দাবি উঠেছে, যা কেবল সংসদীয় ভোটের মাধ্যমেই সম্ভব।
এদিনের প্রতিবাদ সামলাতে তিরানায় ১,৩০০-এর বেশি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও বিক্ষোভকারীরা সরকারি ভবনের দিকে পাথর এবং ককটেল ছুঁড়তে শুরু করলে পুলিশ পালটা টিয়ার গ্যাস ছোড়ে। বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা সালি বেরিশা—যিনি নিজেও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত—এই প্রতিবাদকে একটি ‘শান্তিপূর্ণ অভ্যুত্থান’ বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকার বিচার ব্যবস্থার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মেন্টর কিকিয়ার মতে, এই বিক্ষোভ থেকে বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। তিনি বলেন, “নাগরিকরা সন্দিহান। সাধারণ মানুষের ধারণা, রামা ক্ষমতা ছাড়লে পুনরায় বেরিশা ফিরে আসবেন। দুর্নীতির অভিযোগে একজন ক্ষমতা হারিয়েছিলেন, অন্যজনকেও দুর্নীতির কারণে ক্ষমতা ছাড়তে হবে।” আলবেনিয়া ২০২৭ সালের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের স্বপ্ন দেখছে, তবে এই অভ্যন্তরীণ অশান্তি এবং দুর্নীতির অভিযোগ সেই পথকে কতটা মসৃণ রাখবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।