মহাকাশে কি জন্ম নিতে পারে মানুষ? স্পেস প্রেগন্যান্সি নিয়ে বিজ্ঞানীদের ভয়ঙ্কর সতর্কবার্তা!

মানুষ এখন শুধু মহাকাশ ভ্রমণে সীমাবদ্ধ থাকতে চাইছে না, বরং সেখানে পাকাপাকিভাবে বসতি স্থাপনের স্বপ্ন দেখছে। ইলন মাস্কের মার্স মিশন থেকে শুরু করে নাসার আর্টেমিস—মহাকাশ এখন মানুষের নতুন ঠিকানা হওয়ার পথে। কিন্তু এই স্বপ্নপূরণের পথে সবথেকে বড় প্রশ্ন হলো—মহাকাশে কি নতুন প্রাণের জন্ম দেওয়া সম্ভব? অর্থাৎ, ‘স্পেস রিপ্রোডাকশন’ বা মহাকাশে সন্তান জন্মদান কি নিরাপদ? একটি নতুন আন্তর্জাতিক গবেষণা এই বিষয়ে অত্যন্ত উদ্বেগের খবর দিয়েছে।
‘রিপ্রোডাক্টিভ বায়োমেডিসিন অনলাইন’ জার্নালে প্রকাশিত একটি সাম্প্রতিক রিপোর্টে ৯ জন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ দাবি করেছেন যে, মহাকাশে প্রজনন প্রক্রিয়া প্রযুক্তিগতভাবে এগিয়ে গেলেও জৈবিকভাবে এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বর্তমানে মহাকাশচারীরা দীর্ঘ সময় স্পেস স্টেশনে থাকছেন এবং বাণিজ্যিক ফ্লাইটের মাধ্যমে পর্যটকরাও সেখানে যাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে প্রজনন স্বাস্থ্য বা ‘রিপ্রোডাক্টিভ হেলথ’ এখন আর কেবল থিওরি নয়, বরং একটি বড় ব্যবহারিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, মহাকাশের প্রতিকূল পরিবেশ ভ্রূণের বিকাশের জন্য একেবারেই উপযুক্ত নয়। এর প্রধান কারণ হলো কসমিক রেডিয়েশন। মহাকাশে থাকা এই মারাত্মক তেজস্ক্রিয় রশ্মি মহিলাদের মাসিক চক্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। দ্বিতীয় বড় সমস্যা হলো মাইক্রো গ্র্যাভিটি। মাধ্যাকর্ষণ শক্তির অভাব ভ্রূণের হাড়ের গঠন এবং সামগ্রিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া, মহাকাশে দিন-রাতের স্বাভাবিক চক্র বা সার্কাডিয়ান রিদম বজায় থাকে না, যার ফলে শরীরের হরমোনের ভারসাম্য পুরোপুরি বিগড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
তবে আশার আলো দেখাচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তি। বর্তমানে আইভিএফ (IVF) এবং ডিম্বাণু-শুক্রাণু ফ্রিজ করার (Cryopreservation) মতো প্রযুক্তি মহাকাশেও ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা হচ্ছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, ল্যাবের নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে ভ্রূণ তৈরির প্রক্রিয়াটি মহাকাশের কঠিন পরিস্থিতিতেও কাজ করার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। এমনকি জেনেটিক স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে মহাকাশে ভ্রূণের কোনো জিনগত ত্রুটি আছে কিনা তাও পরীক্ষা করা সম্ভব হতে পারে।
কিন্তু প্রযুক্তির উন্নতির পাশাপাশি নীতিগত ও নৈতিক প্রশ্নগুলো বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে। নাসার বিশেষজ্ঞ ডক্টর ফাতী কারুইয়া এবং গাইলস পামার জানিয়েছেন যে, মহাকাশে যদি কোনো অপরিকল্পিত গর্ভধারণ (Unplanned Pregnancy) ঘটে বা রেডিয়েশনের কারণে কেউ বন্ধ্যাত্বের শিকার হন, তবে তার দায়ভার কে নেবে? মহাকাশে জন্ম নেওয়া শিশুর আইনি পরিচয় এবং অধিকার নিয়ে এখনও কোনো আন্তর্জাতিক নীতিমালা তৈরি হয়নি। ফলে মহাকাশে মানুষের বংশবৃদ্ধি করার স্বপ্ন বাস্তবায়নের আগে বিজ্ঞানের পাশাপাশি আইনি এবং নৈতিক জট কাটানোও এখন বড় চ্যালেঞ্জ।