মানুষ থেকে সাপ! বিছানায় খোলস রেখে উধাও তরুণী, অলৌকিক আতঙ্কে কাঁপছে গোটা গ্রাম

উত্তরপ্রদেশের আউরাইয়া জেলায় সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানানো এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। ফাফুন্ড থানা এলাকার একটি গ্রামে মঙ্গলবার সকালে এক তরুণী রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। কিন্তু তার অন্তর্ধানের চেয়েও বেশি চর্চায় উঠে এসেছে তার ফেলে যাওয়া শোবার ঘরের দৃশ্য। বিছানার ওপর তরুণীর পোশাকের মধ্যে জড়িয়ে ছিল ৫ ফুট লম্বা একটি সাপের আস্ত খোলস! চারপাশে ছড়িয়ে ছিল ভাঙা চুড়ি আর সিঁদুর। এই দৃশ্য দেখামাত্রই গ্রামে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, ওই তরুণী আসলে কোনো সাধারণ মানুষ নন, বরং এক ‘ইচ্ছাধারী নাগিন’, যে তার মানবরূপ ত্যাগ করে চলে গেছে।
গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ও কুসংস্কার: খবরটি দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়তেই গ্রামে ত্রাহি ত্রাহি রব শুরু হয়। ভয়ে স্থানীয়রা ওই বাড়ির আশেপাশে যাওয়া বন্ধ করে দেন। গ্রামের মহিলারা অশুভ শক্তির হাত থেকে বাঁচতে বাড়িতে বাড়িতে ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও পুজো শুরু করেন। এক গ্রামবাসী আতঙ্কে জানান, “আমরা ভেবেছিলাম অঘটন ঘটেছে, কিন্তু বিছানায় সাপের খোলস দেখে সবাই নিশ্চিত হয়ে যাই যে মেয়েটি সাপে রূপান্তরিত হয়েছে।”
পুলিশি তদন্তে পর্দাফাঁস: পরিস্থিতি হাতের বাইরে যাচ্ছে দেখে পরিবার পুলিশে খবর দেয়। ফাফুন্ড থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘর তল্লাশি করতেই রহস্যের জট খুলতে শুরু করে। তদন্তে জানা যায়, কোনো অলৌকিক ঘটনা নয়, বরং এটি ছিল নিখুঁত এক ষড়যন্ত্র। পুলিশি নজরদারিতে ধরা পড়ে যে, ওই তরুণী গ্রামেরই এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন। প্রেমিকের সঙ্গে পালানোর পথ পরিষ্কার করতে এবং পরিবারের নজর ঘোরাতেই তিনি এই ‘নাগিন’ নাটক সাজিয়েছিলেন।
ফাফুন্ড থানার ইনচার্জ অজয় কুমার জানান, “এটি সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত নাটক। সাপের খোলসটি ইচ্ছাকৃতভাবে বিছানায় রাখা হয়েছিল যাতে মানুষ একে কুসংস্কারের চোখে দেখে এবং পুলিশকে বিভ্রান্ত করা যায়।” বর্তমানে পুলিশ মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করে ওই তরুণী ও তার প্রেমিকের সন্ধান চালাচ্ছে। আধুনিক ডিজিটাল যুগেও যে কুসংস্কারকে হাতিয়ার করে মানুষকে এভাবে বোকা বানানো যায়, এই ঘটনা তারই এক জলজ্যান্ত প্রমাণ।