কানপুর ল্যাম্বরগিনি দুর্ঘটনা: ‘যে দোষী, সে-ই পালায়!’ শিবম মিশ্রের বাবার দাবিতে আমল দিল না পুলিশ

কানপুরের ভিআইপি রোডে ল্যাম্বরগিনি গাড়ির ভয়াবহ দুর্ঘটনার রেশ কাটছেই না। ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত, নামী তামাক ব্যবসায়ী কে. কে. মিশ্রের ছেলে শিবম মিশ্র এখনও পলাতক। পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁকে গ্রেফতারের জোরদার চেষ্টা চললেও, মঙ্গলবার ডিসিপি সেন্ট্রাল অতুল শ্রীবাস্তব এক চাঞ্চল্যকর বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, অপরাধী সব সময়ই পালানোর চেষ্টা করে, কিন্তু আইন থেকে বাঁচা সম্ভব নয়।

বাবার দাবি ও পুলিশের অবস্থান: মঙ্গলবার শিবম মিশ্রের বাবা থানায় এসে নিজের বয়ান রেকর্ড করেছেন। তাঁর দাবি, ঘটনার সময় শিবম নয়, বরং তাঁর গাড়িচালক ল্যাম্বরগিনি চালাচ্ছিলেন। এমনকি অভিযুক্তের আইনজীবীর দাবি অনুযায়ী, শিবম বর্তমানে চিকিৎসার জন্য দিল্লিতে রয়েছেন। তবে পুলিশ এই ‘ড্রাইভার তত্ত্ব’ মানতে নারাজ। ডিসিপি অতুল শ্রীবাস্তব বলেন, “তদন্তে স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে দুর্ঘটনার সময় শিবম মিশ্রই স্টিয়ারিংয়ে ছিলেন। এখন পালানোর জন্য পরিবার নানা অজুহাত দিচ্ছে।”

তদন্তে বাধা ও ক্ষোভ: শনিবারের এই দুর্ঘটনার পর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রথমে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর হলেও ভাইরাল ভিডিওর পর শিবমকে শনাক্ত করা হয়। সোমবার তদন্তকারী কর্মকর্তা কে. কে. মিশ্রের বাড়িতে গেলেও তাঁদের গেট খোলা হয়নি। অথচ অভিযুক্তের আইনজীবীর জন্য মুহূর্তের মধ্যে দরজা খুলে দেওয়া হয়। পুলিশের দাবি, প্রভাবশালী পরিবারটি তদন্তে অসহযোগিতা করছে।

দিল্লিতে তল্লাশি: শিবমের বাবা জানিয়েছেন তাঁর ছেলে দিল্লির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিশ একটি বিশেষ দল গঠন করে দিল্লির বিভিন্ন হাসপাতাল ও সম্ভাব্য আস্তানায় তল্লাশি চালাচ্ছে। ডিসিপি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যেতে খুব শীঘ্রই অভিযুক্তকে হেফাজতে নেওয়া হবে।