দুবাই-শারজায় বিকোবে বেনারসের বেগুন ও জৌনপুরের মূলা! ৩৫ কোটির কার্গো টার্মিনালে খুলছে ভাগ্যের দুয়ার

উত্তরপ্রদেশের পূর্বাঞ্চলের কৃষকদের জন্য এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিতে চলেছে সরকার। বারাণসীতে তৈরি হতে চলেছে বিশাল ‘গতিশক্তি কার্গো টার্মিনাল’। প্রায় ৮৭ একর জমির ওপর নির্মিত এই টার্মিনালের ফলে বারাণসীসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলির কৃষিপণ্য এখন সরাসরি পৌঁছে যাবে দুবাই এবং শারজার মতো আন্তর্জাতিক বাজারে। এই মেগা প্রকল্পের জন্য আনুমানিক ৩৫ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
তিন গ্রামের ভোল বদলে দেবে এই প্রকল্প: বারাণসীর গঙ্গাপুর, দয়ালিপুর এবং জগদীশপুর—এই তিনটি গ্রামের জমিতে কার্গো টার্মিনালটি নির্মাণের খসড়া তৈরি করেছে জেলা প্রশাসন। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সত্যেন্দ্র কুমার জানিয়েছেন, জমি চিহ্নিতকরণের কাজ শেষ এবং ডিপিআর (DPR) সরকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত জমি অধিগ্রহণ ও নির্মাণের কাজ শুরু হবে। এই টার্মিনালের ফলে শহরের ভেতরে ট্রাক ও ভারী যানবাহনের চাপ কমবে, ফলে যানজট থেকেও মুক্তি পাবেন শহরবাসী।
পূর্বাঞ্চলের লক্ষ লক্ষ কৃষক ও তাঁতিদের পোয়াবারো: এই কার্গো টার্মিনাল কেবল সবজি চাষি নয়, বরং তাঁতি এবং কারিগরদের জন্যও আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়াবে। জৌনপুরের বিখ্যাত মূলা, মির্জাপুরের বেগুন কিংবা বারাণসীর আম ও সজনে ডাটা এখন অনেক কম পরিবহন খরচে বিদেশের বাজারে পৌঁছাবে। বর্তমানে সেবাপুরীতে একটি পচনশীল কার্গো কেন্দ্র থাকলেও সেটি বিমানবন্দর থেকে দূরে হওয়ায় কৃষকরা সঠিক সুবিধা পাচ্ছিলেন না। বিমানবন্দরের কাছে নতুন এই টার্মিনাল আন্তর্জাতিক মানের সবজি রপ্তানি নিশ্চিত করবে।
কর্মসংস্থান ও অর্থনীতির নতুন দিশা: রপ্তানি বৃদ্ধির পাশাপাশি এই প্রকল্প স্থানীয় স্তরে প্রচুর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে। পরিবহন খরচ কমলে পণ্যের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থাকবে। আম রপ্তানিকারক সৌরভ রঘুবংশীর মতে, এই টার্মিনালটি চালু হলে পূর্বাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তন আসবে এবং কৃষকরা তাঁদের ফসলের আন্তর্জাতিক দর পাবেন।