‘আমি তখন নাবালিকা!’ এপস্টিনের যৌনদাসের বাজার থেকে ফেরা মহিলার জবানবন্দিতে কেঁপে উঠল বিশ্ব

বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী ব্যক্তিদের মনোরঞ্জনের জন্য কীভাবে নাবালিকাদের ব্যবহার করা হতো, তার এক হাড়হিম করা বর্ণনা দিলেন টেলা ডেভিস। কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের লালসার শিকার হওয়া এই মহিলা সম্প্রতি একটি ভিডিওতে জানিয়েছেন, কীভাবে মাত্র ১৭ বছর বয়সে তাঁকে এক মরণফাঁদে ফেলা হয়েছিল। এই জবানবন্দি ফের একবার হলিউড থেকে ওয়াশিংটন—সব মহলের প্রভাবশালী ‘সাদা পোশাকের’ অপরাধীদের মুখোশ খুলে দিয়েছে।
স্বপ্নের জাল ও বিভীষিকা: টেলা জানিয়েছেন, প্রথম দেখায় এপস্টিনকে কোনো অপরাধী মনে হয়নি। বরং সে ছিল দয়ালু এক ধনকুবের। ১৭ বছরের টেলাকে সে হেলিকপ্টারে করে আমেরিকা ঘুরিয়েছিল, উপহার দিয়েছিল বিলাসবহুল জীবন। কিন্তু এই রূপকথার আড়ালে লুকিয়ে ছিল ভয়ঙ্কর এক দানব। কয়েক দিনের মধ্যেই টেলাকে ধর্ষণ করে এপস্টিন। এরপর শুরু হয় শরীরের ওপর অমানবিক অত্যাচার। যখন এপস্টিন নিশ্চিত হয় যে টেলা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন, তখন তাঁকে তুলে দেওয়া হয় তথাকথিত ‘ভিভিআইপি’ অতিথিদের হাতে।
পণ্য হিসেবে ব্যবহার: টেলার বয়ান অনুযায়ী, নিউ ইয়র্ক থেকে মেক্সিকো, ফ্লোরিডা থেকে ভার্জিন আইল্যান্ড—এপস্টিনের নিজস্ব দ্বীপে তাঁকে পণ্যের মতো এক হাত থেকে অন্য হাতে পাঠানো হতো। বিশ্বের বাঘা বাঘা নেতা, শিল্পপতি এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের লালসা মেটাতে বাধ্য করা হতো এই নাবালিকাকে। টেলা বলেন, “আমি তখন এতটাই ছোট ছিলাম যে এই নরক থেকে বেরোনোর কোনো রাস্তাই জানতাম না।”
অসমাপ্ত লড়াই: টেলার মতো কয়েক জন সাহসী মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতেই অবশেষে গ্রেফতার হয়েছিল এপস্টিন। যদিও জেলবন্দি অবস্থায় সে আত্মহত্যা করে, কিন্তু টেলার প্রশ্ন—সেই প্রভাবশালী ‘খদ্দের’দের কী হবে? এপস্টিন শেষ হয়ে গেলেও সেই সব প্রভাবশালীরা আজও সমাজে অত্যন্ত সম্মানীয় মুখ হিসেবে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। টেলা ডেভিস আজও সেই বিচার এবং তাঁদের শাস্তির অপেক্ষায়।