দেরাদুনে মুসলিম প্রতিষ্ঠানের জমি নিয়ে তুলকালাম! মুখ্যমন্ত্রী ধামির দ্বারে বিজেপি বিধায়ক, নেপথ্যে কি আইএমএ-র সুরক্ষা?

উত্তরাখণ্ডের রাজধানী দেরাদুনের ধৌলাসে একটি সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ জমি ঘিরে চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা শুরু হয়েছে। এই জমি বরাদ্দ বাতিল করার দাবিতে মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির দ্বারস্থ হয়েছেন বিজেপির প্রবীণ বিধায়ক ও মুখপাত্র বিনোদ চামোলি। বিজেপির অভিযোগ, এই জমিটি দেশের অত্যন্ত সংবেদনশীল ইন্ডিয়ান মিলিটারি একাডেমি (IMA)-র সন্নিকটে অবস্থিত এবং এখানে কোনো বিশেষ সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠান গড়া জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।
বিজেপির অভিযোগ ও নিরাপত্তার প্রশ্ন: বিনোদ চামোলি মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছেন যে, ২০০৪ সালে তৎকালীন তিওয়ারি সরকারের আমলে আইএমএ-র আপত্তিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এই জমিটি বরাদ্দ করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, ২০২২ সালে যখন উত্তরাখণ্ডে ‘মুসলিম ইউনিভার্সিটি’ গড়ার প্রসঙ্গ উঠেছিল, তার মূল ভিত্তি ছিল এই জমিটিই। বর্তমানে সেই জমির চরিত্র বদলে সেখানে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষকে বসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। চামোলি বলেন, “যেখানে দেশের গর্বিত সেনাকর্মকর্তারা তৈরি হন, সেই এলাকায় এহেন কার্যকলাপ দেবভূমির পবিত্রতা নষ্ট করার এক গভীর ষড়যন্ত্র।”
কংগ্রেসের পালটা চ্যালেঞ্জ: বিজেপির এই অভিযোগের তীব্র বিরোধিতা করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা হরিশ রাওয়াত। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ২০০৪ সালের ঘটনা নিয়ে ২০২৬ সালে কেন বিজেপি হইচই করছে? রাওয়াত বলেন, “২০০৪ থেকে ২০২৬-এর মধ্যে বিজেপি বহুবার ক্ষমতায় এসেছে। যদি ধৌলাসে কিছু ভুল হয়ে থাকে, তবে এতদিন বিজেপি চুপ ছিল কেন? এখন সেখানে যে প্লটিং হচ্ছে, তা নিশ্চয়ই বর্তমান বিজেপি সরকারের অনুমতি নিয়েই হচ্ছে।”
সরকারের অবস্থান: মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন। তিনি বিধায়ক চামোলিকে আশ্বস্ত করেছেন যে, জাতীয় নিরাপত্তা এবং আইএমএ-র স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হয় এমন কোনো কাজ হতে দেওয়া হবে না। জমিটি পুনরায় সরকারি দখলে নেওয়ার এবং বরাদ্দ বাতিলের বিষয়ে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। উত্তরাখণ্ডে বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ‘ল্যান্ড জিহাদ’ এবং জনবিন্যাস বদলের বিতর্ক রাজনৈতিক পারদকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।