রাস্তায় ব্যথায় ছটফট করছিলেন যুবক, পাশ কাটিয়ে চলে গেল সবাই! দুর্গের সিসিটিভি ফুটেজে শিহরিত শহর

ইস্পাত নগরী দুর্গ ও ভিলাইয়ের সড়ক নিরাপত্তা এবং মানবিকতা—দুই নিয়েই বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল সোমবার বিকেলের এক মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা। দুর্গ জেলার পুরাতন ভিলাই থানা এলাকার উমদা রোডে একটি ঘাতক ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ হারালেন নীলেশ কুরে নামের এক যুবক। তবে এই দুর্ঘটনাকে ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের উদাসীনতা। দুর্ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, যুবকটি রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় যন্ত্রণায় ছটফট করলেও অনেক পথচারী তাঁকে দেখেও না দেখার ভান করে এগিয়ে যান। কেউ সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেননি।

কী ঘটেছিল সেই বিকেলে? পুলিশ সূত্রে খবর, সুরদুংয়ের বাসিন্দা নীলেশ কুরে সোমবার দুপুর ৩টে নাগাদ তাঁর এক বন্ধুর সঙ্গে বাইকে করে গ্রামে ফিরছিলেন। উমদা রোডে একটি বেপরোয়া ট্রাক পিছন থেকে তাঁদের বাইকে সজোরে ধাক্কা মারে। ধাক্কাটি এতটাই মারাত্মক ছিল যে নীলেশ ছিটকে পড়েন এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পান। হেলমেট না থাকায় আঘাত ছিল সরাসরি প্রাণঘাতী। তাঁর বন্ধুও জখম হন, তবে তিনি প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন।

ভাইরাল সিসিটিভি এবং মানবিকতার অভাব: ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই শোরগোল পড়ে গেছে। ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, নীলেশ যখন রাস্তায় পড়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিলেন, তখন অনেক গাড়ি এবং পথচারী পাশ দিয়ে নির্বিকারভাবে চলে যান। ভারতের সড়ক আইনে ‘গুড সামারিটান’ বা সাহায্যকারীদের আইনি সুরক্ষা দেওয়া হলেও, সাধারণ মানুষের এই ভয় বা উদাসীনতা এক তরুণের অকাল মৃত্যু ডেকে আনল বলে স্থানীয়দের দাবি। শেষ পর্যন্ত পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করলেও ততক্ষণে সব শেষ।

পুলিশি পদক্ষেপ: দুর্গের সিএসপি সত্যপ্রকাশ তিওয়ারি জানিয়েছেন, মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ঘাতক ট্রাকটিকে চিহ্নিত করেছে এবং অভিযুক্ত চালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আহত বন্ধুটি বর্তমানে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনার পর দুর্গ এবং ভিলাইয়ের ব্যস্ত রাস্তাগুলোতে ট্রাফিক আইন কঠোর করা এবং বেপরোয়া ট্রাক চালকদের নিয়ন্ত্রণে আনার দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।