কোটি কোটি আয় সত্ত্বেও শ্রীঘরে রাজপাল যাদব! শেষ ৫টি ছবির পারিশ্রমিক জানলে চমকে যাবেন

বলিউডের পর্দায় যাঁর উপস্থিতি মানেই হাসির রোল, সেই বিখ্যাত কমেডিয়ান রাজপাল যাদব এখন জীবনের চরম সংকটে। দীর্ঘদিনের ঋণ এবং চেক বাউন্স মামলায় দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশে শেষমেশ আত্মসমর্পণ করতে হয়েছে তাঁকে। বর্তমানে তাঁর ঠিকানা দিল্লির তিহাড় জেল। কোটি কোটি মানুষের মুখে হাসি ফোটানো এই অভিনেতার ব্যক্তিগত জীবন এখন আইনি জটিলতা আর আর্থিক অনটনের মেঘে ঢাকা।

নেপথ্যে ২০১০ সালের এক পুরনো ঋণ: সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনার সূত্রপাত ২০১০ সালে। রাজপাল এবং তাঁর স্ত্রী রাধা যাদব তাঁদের ছবি ‘অতা পতা লপাতা’ নির্মাণের জন্য বড় অঙ্কের ঋণ নিয়েছিলেন। কিন্তু সময়মতো সেই টাকা পরিশোধ না হওয়ায় সুদে-আসলে তা পাহাড়প্রমাণ হয়ে দাঁড়ায়। বারবার চেক বাউন্স হওয়ায় বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়, যার চূড়ান্ত পরিণতি হলো এই জেলযাত্রা।

আয় ছিল আকাশছোঁয়া, তবুও কেন এই পরিণতি? সবচেয়ে অবাক করা তথ্য হলো, রাজপাল যাদব গত কয়েক বছর ধরে একের পর এক সফল ছবিতে কাজ করেছেন। ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে তাঁর শেষ পাঁচটি বড় ছবি থেকে তিনি প্রায় ৭-৮ কোটি টাকা আয় করেছেন।

  • ভুল ভুলাইয়া ৩: ২-৩ কোটি টাকা

  • চন্দু চ্যাম্পিয়ন: ২ কোটি টাকা

  • কাঠাল: ১ কোটি টাকা

  • ড্রিম গার্ল ২: ১ কোটি টাকা

  • বেবি জন: ১ কোটি টাকা এত টাকা আয় করা সত্ত্বেও পুরনো ঋণের বোঝা এবং আইনি মারপ্যাঁচ থেকে তিনি মুক্তি পাননি। অভিনেতা নিজেই এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, তাঁর ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক তিনি পেয়েছিলেন প্রিয়দর্শনের ‘চুপ চুপ কে’ ছবির জন্য।

পাশে দাঁড়ালেন সোনু সুদ: রাজপালের এই দুর্দিনে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন বলিউডের ‘মসিহা’ সোনু সুদ। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন, রাজপাল যাদবকে তিনি তাঁর আগামী ছবিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র দিচ্ছেন যাতে এই অভিনেতা আর্থিক বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে পারেন। সোনু সুদের কথায়, “এটি কোনো করুণা নয়, বরং একজন প্রতিভাবান শিল্পীকে সসম্মানে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দেওয়া।” ভক্তরাও প্রিয় অভিনেতার এই কঠিন সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর দ্রুত মুক্তি কামনা করছেন।