‘জুতো মার খাওয়া’ মন্তব্যে তুলকালাম! বিধানসভায় বিজেপি বিধায়কদের কেন এমন বললেন ওমর আবদুল্লাহ?

জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভা মঙ্গলবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিল। সৌজন্যের সীমা ছাড়িয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং ‘অসংসদীয়’ ভাষা ব্যবহারের অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠল সংসদ। কাঠগড়ায় খোদ মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ। ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী এমন এক বিতর্কিত শব্দবন্ধ ব্যবহার করেন, যা নিয়ে বিজেপি বিধায়করা কার্যত ক্ষোভে ফেটে পড়েন। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, দফায় দফায় মুলতুবি করতে হয় অধিবেশন।

তর্কের সূত্রপাত যেখানে: মঙ্গলবার বিধানসভায় বক্তব্য রাখছিলেন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ। আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি। ওমরের দাবি ছিল, এই চুক্তির ফলে কাশ্মীরি আপেল, বাদাম এবং আখরোট চাষিরা চরম ক্ষতির মুখে পড়বেন। তিনি যখন কেন্দ্রের এই নীতির সমালোচনা করছিলেন, তখন বিজেপি বিধায়করা বাধা দিতে শুরু করেন এবং ‘মোদী মোদী’ স্লোগান তোলেন। এতেই মেজাজ হারান মুখ্যমন্ত্রী।

সেই বিতর্কিত ‘জুতো’ মন্তব্য: বিক্ষোভকারী বিজেপি বিধায়কদের দিকে আঙুল তুলে ওমর আবদুল্লাহ তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, “এই সংসদে আপনাদের গতদিনের বক্তৃতার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (অমিত শাহ) আপনাদের তিরস্কার করবেন।” তবে সূত্রের খবর, তিনি ‘তিরস্কার’ বোঝাতে স্থানীয় একটি প্রবাদ ব্যবহার করেন যার আক্ষরিক অর্থ দাঁড়ায় ‘জুতো দিয়ে পেটানো’ (জুতিঁয়ো সে পিটনা)। মুখ্যমন্ত্রীর মুখ থেকে এমন শব্দ শোনার সাথে সাথেই বিজেপি বিধায়করা ওয়েলে নেমে এসে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।

বিজেপির পালটা আক্রমণ: বিজেপি বিধায়ক সুনীল শর্মার নেতৃত্বে বিরোধী শিবির মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং নিঃশর্ত ক্ষমার দাবিতে অনড় থাকে। তাদের অভিযোগ, একজন মুখ্যমন্ত্রী পদে বসে এই ধরনের কুরুচিকর এবং হিংসাত্মক শব্দ ব্যবহার করতে পারেন না। এটি কেবল বিধায়কদের নয়, বরং গোটা জম্মু-কাশ্মীরের মানুষের জন্য অপমানজনক।

শাসক দলের সাফাই: অন্যদিকে, ন্যাশনাল কনফারেন্সের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে হালকা করার চেষ্টা করা হয়। শাসক দলের নেতাদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী কোনো শারীরিক হিংসার কথা বলেননি। তিনি কেবল একটি জনপ্রিয় বাগধারা বা প্রবাদ ব্যবহার করেছেন যার অর্থ হলো ‘কড়া ভাষায় বকা দেওয়া’ বা ‘তিরস্কার করা’। তবে বিজেপি এই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ। স্লোগান ও পাল্টা স্লোগানে বিধানসভা চত্বর থমথমে হয়ে ওঠে।