পকেট সামলে প্রচার! ঝাড়খণ্ড পৌরভোটে টাকার খেলা রুখতে কমিশনের ‘মাস্টারস্ট্রোক’!

ঝাড়খণ্ডে আসন্ন পৌর কর্পোরেশন নির্বাচনে ‘ধন-বল’ বা টাকার জোরে জয়ী হওয়ার স্বপ্ন দেখা প্রার্থীদের জন্য দুঃসংবাদ। নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং কালো টাকার প্রভাব রুখতে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। এবার থেকে প্রার্থীদের প্রতিদিনের প্রচারের খরচের হিসাব দিতে হবে কমিশনের কাছে। ভোটারদের প্রভাবিত করতে অবৈধ অর্থ লেনদেন রুখতে প্রতিটি বুথ এবং ওয়ার্ড স্তরে মোতায়েন করা হয়েছে বিশেষ নজরদারি দল।
কড়া নজরদারিতে কমিশন: সচিবের কড়া বার্তা নির্বাচন কমিশনের সচিব রাধেশ্যাম প্রসাদ জানিয়েছেন, ঝাড়খণ্ডের মোট ৪৮টি নগর সংস্থায় এই কড়াকড়ি বলবৎ হবে। সুষ্ঠু ও অবাধ ভোটদান নিশ্চিত করাই কমিশনের প্রধান লক্ষ্য। গত নির্বাচনের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখে এবার প্রতিটি জেলায় একটি করে ‘কন্ট্রোল রুম’ খোলা হয়েছে। পাশাপাশি, প্রার্থীদের গতিবিধি এবং খরচের ওপর নজর রাখতে ‘ব্যয় পর্যবেক্ষক’ ও ‘সাধারণ পর্যবেক্ষক’ নিয়োগ করা হয়েছে। কোনো প্রার্থী বা তাঁর সমর্থক আইনবহির্ভূত কাজে লিপ্ত হলে তাঁর প্রার্থীপদ বাতিলের মতো কঠোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে।
কত টাকা খরচ করতে পারবেন প্রার্থীরা? কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, জনসংখ্যার নিরিখে খরচের সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
-
১০ লক্ষের বেশি জনসংখ্যা: এমন এলাকার মেয়র বা পদের প্রার্থীরা সর্বোচ্চ ২৫ লক্ষ টাকা এবং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীরা ৫ লক্ষ টাকা খরচ করতে পারবেন।
-
১০ লক্ষের কম জনসংখ্যা: এই এলাকায় মেয়র বা পদের প্রার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ সীমা ১৫ লক্ষ টাকা এবং ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের জন্য ৩ লক্ষ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।
প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়ের জন্য একটি আলাদা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রতিদিনের খরচের বিবরণ সংশ্লিষ্ট পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হবে। উল্লেখ্য, গত পৌর নির্বাচনে ভোটগ্রহণের ঠিক আগে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনের অভিযোগে একটি নির্বাচন স্থগিত করতে হয়েছিল কমিশনকে। সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি এড়াতে এবার কোমর বেঁধে নেমেছে প্রশাসন।