‘মুখ থেকে ফেনা বেরোচ্ছিল…’ কানপুর ল্যাম্বরগিনি কাণ্ডে কমিশনারের বিস্ফোরক দাবি, মুখ খুললেন তামাক সম্রাট!

উত্তরপ্রদেশের কানপুরে বিলাসবহুল ‘ল্যাম্বরগিনি’ গাড়ির নৃশংস দুর্ঘটনার রেশ এখন আদালত পর্যন্ত পৌঁছেছে। কানপুরের বিশিষ্ট তামাক ব্যবসায়ী কে.কে মিশ্রর ছেলে শিবম মিশ্রর বিরুদ্ধে পুলিশ কমিশনার রঘুবীর লাল এক চাঞ্চল্যকর বিবৃতি দিয়েছেন। কমিশনার নিশ্চিত করেছেন যে, দুর্ঘটনার সময় চালকের আসনে ছিলেন স্বয়ং শিবম মিশ্র এবং সিসিটিভি ফুটেজ ও ডিজিটাল প্রমাণের ভিত্তিতে তাঁর নাম এফআইআর-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যদিও শিবমের বাবা পুলিশের এই দাবিকে পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন।

সিসিটিভি ফুটেজ ও কমিশনারের রিপোর্ট পুলিশ কমিশনার রঘুবীর লাল জানিয়েছেন, “প্রাথমিক তদন্তে সন্দেহ থাকলেও, এখন আমাদের হাতে পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে যে শিবম মিশ্রই গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। ঘটনার আগে ও পরে তাঁর গতিবিধি ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ধরা পড়েছে।” পুলিশ শিবমের বাড়িতে তল্লাশি চালালে জানানো হয় যে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বর্তমানে শিবম পলাতক থাকলেও তাঁর আইনজীবী আদালতে আত্মসমর্পণের আবেদন জানিয়েছেন।

বাবার দাবি বনাম প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান ছেলের সমর্থনে তামাক সম্রাট কে.কে মিশ্র দাবি করেছেন যে, শিবম সেই সময় গাড়ি চালাচ্ছিলেন না। তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি একেবারেই ভিন্ন। তাঁদের মতে, ল্যাম্বরগিনিটি ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বুলেট রিকশাকে সজোরে ধাক্কা মারে, যার ফলে আরোহী যুবক প্রায় ১০ ফুট দূরে ছিটকে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানিয়েছেন যে, দুর্ঘটনার পর চালকের আসনে বসা শিবমের মুখ থেকে ফেনা বেরোচ্ছিল—মনে করা হচ্ছে তাঁর মৃগীরোগের আক্রমণ হয়েছিল।

তদন্তে নয়া মোড়: বিলাসবহুল জীবনের অন্ধকার দিক শিবম মিশ্রর বিলাসবহুল গাড়ির শখ কানপুরে সুবিদিত। ২০২৪ সালের আয়কর হানায় তাঁর পরিবার থেকে ১০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের গাড়ি উদ্ধার হয়েছিল, যার মধ্যে ছিল ১৬ কোটি টাকার রোলস রয়েস, ফেরারি ও ম্যাকলারেনের মতো দামী ব্র্যান্ড। কমিশনার জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর শিবমের বাউন্সাররা আমজনতার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা করে। পুলিশ বর্তমানে চার্জশিট তৈরির কাজ চালাচ্ছে এবং শিবমের বাবা কে.কে মিশ্রকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সমন পাঠানো হয়েছে।