প্রফেসরদের পর এবার টার্গেট ডাক্তাররা! সরকারি হাসপাতালের নয়া ‘নোডাল অফিসার’ পদে বিদ্রোহের সুর!

রাজস্থানের চিকিৎসাক্ষেত্রে এক নজিরবিহীন ও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। যোধপুরের ডক্টর এসএন মেডিক্যাল কলেজ সংলগ্ন সরকারি হাসপাতালগুলি থেকে আবর্জনা বা রোগের বদলে এখন ‘আওয়ারা কুকুর’ বা রাস্তার কুকুর তাড়ানোর গুরুভার দেওয়া হয়েছে খোদ ডাক্তারদের। এই কাজের জন্য চিকিৎসকদের ‘নোডাল অফিসার’ নিয়োগ করা হয়েছে, যাঁদের প্রধান কাজ হবে পুরনিগমের সঙ্গে সমন্বয় রেখে হাসপাতাল চত্বর কুকুরমুক্ত করা। প্রশাসনের এই আজব নির্দেশের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন চিকিৎসকরা।
চিকিৎসকদের ঘাড়ে যখন পুরসভার কাজ মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপাল ডক্টর বিএস যোধা হাসপাতাল সুপারদের এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, মান্ডোর জেলা হাসপাতালে দন্ত চিকিৎসক ডক্টর নির্মলা বিষ্ণোই এবং প্রতাপনগর জেলা হাসপাতালে ডক্টর নরেশ চৌহানকে নোডাল অফিসার করা হয়েছে। তাঁদের দায়িত্ব হল, হাসপাতাল চত্বরে কুকুর ঢুকতে বাধা দেওয়া এবং ঢুকে পড়লে পুরনিগমের টিমকে ডেকে সেগুলি সরানো। চিকিৎসকদের মতে, যে কাজ পুরসভার সাফাই কর্মী বা স্বাস্থ্য সহকারীদের করার কথা, তা কেন ডাক্তারদের দিয়ে করানো হচ্ছে?
আন্দোলনের হুঁশিয়ারি চিকিৎসক সংগঠনের ‘অল রাজস্থান সার্ভিস ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন’-এর যোধপুর সভাপতি রামানিবাস সেনওয়ার এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ পালন করতে হলে স্বাস্থ্য দপ্তরকে হেলথ ম্যানেজার বা কেয়ার টেক্কারের মতো পদ তৈরি করা উচিত ছিল। ডাক্তারদের এই কাজে ব্যবহার করলে চিকিৎসার মহান পেশার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হবে। অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হোক।”
প্রশাসনের সাফাই: কেবল সমন্বয়, ধরা নয়! বিতর্কের মুখে প্রিন্সিপাল ডক্টর যোধা জানিয়েছেন, বিষয়টিকে ভুলভাবে পেশ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “ডাক্তারদের কুকুর ধরতে বলা হয়নি, কেবল পুরনিগমের টিমের সঙ্গে কো-অর্ডিনেশন করতে বলা হয়েছে।” উল্লেখ্য, এর আগে কোটা এবং অন্যান্য এলাকায় কলেজের প্রফেসরদের একই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ইউজিসি (UGC) এবং সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন মেনেই গোটা রাজ্যে ধাপে ধাপে এই নিয়ম কার্যকর করা হচ্ছে বলে দাবি কলেজ কর্তৃপক্ষের।