দেওঘরে বিজেপির রণহুঙ্কার! ঘরের ‘বিপজ্জনক’ শত্রুদের নিয়ে বিস্ফোরক আদিত্য সাহু!

পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঝাড়খণ্ডের রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে। দেওঘর পৌর কর্পোরেশন নির্বাচনকে পাখির চোখ করে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। মঙ্গলবার দেওঘরে জেলা সভাপতি শচীন রাওয়ানির সভাপতিত্বে আয়োজিত এক হাই-প্রোফাইল সাংগঠনিক সভায় উপস্থিত হয়ে ঝাড়খণ্ড বিজেপি রাজ্য সভাপতি আদিত্য সাহু বিরোধীদের পাশাপাশি দলের অভ্যন্তরের ‘গোপন শত্রু’দের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন। তাঁর এই তীক্ষ্ণ মন্তব্য ঘিরে বর্তমানে গোটা রাজ্যে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

বিভ্রান্তি ঝেড়ে ফেলে জয়ের লক্ষ্যে বিজেপি সভায় রাজ্য সভাপতি আদিত্য সাহুকে উত্তরীয় ও শাল পরিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান দলীয় কর্মীরা। এর পরেই রণকৌশল নির্ধারণ করতে গিয়ে আদিত্য সাহু সাফ জানান, জয়ের পথে কোনও দ্বিধা বা বিভ্রান্তির স্থান নেই। দল সমর্থিত প্রার্থী রীতা চৌরাসিয়ার বিজয় সুনিশ্চিত করতে বুথ স্তরের প্রতিটি কর্মীকে ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দেন তিনি। সভায় উপস্থিত রাজমহলের প্রাক্তন বিধায়ক অনন্ত ওঝাও সুর চড়িয়ে বলেন, “সংগঠনই সবথেকে বড় শক্তি। যারা ঘাম ঝরিয়ে মাঠে কাজ করবেন, শুধুমাত্র তাঁদেরই মালা পরানোর অধিকার থাকবে।” আসন্ন নির্বাচনে বিজেপির কৌশল যে অত্যন্ত নিপুণভাবে সাজানো হয়েছে, এই সভা থেকে সেই বার্তাই দেওয়া হয়েছে।

‘ঘরশত্রু’দের নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য তবে এদিনের সভার মূল আকর্ষণ ছিল আদিত্য সাহুর একটি বিশেষ মন্তব্য, যা রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। নাম না করে তিনি দলের একাংশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলেন, “নির্বাচন এলে কিছু মানুষকে দেখা যায়, কিন্তু তাঁরা তলে তলে অন্য কারো হয়ে কাজ করেন।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জেএমএম (JMM) এবং কংগ্রেসকে শক্তিশালী করার কাজ করছে, তারা আসলে সংগঠনের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে। সাহুর মতে, এই ধরণের ‘সুবিধাবাদী’ চরিত্ররা কখনও দলের সত্যিকারের অংশ হতে পারে না।

দেওঘরের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে রাজনৈতিক আড্ডা— সর্বত্র এখন একটাই প্রশ্ন, আদিত্য সাহু ঠিক কাদের দিকে ইঙ্গিত করলেন? কোনো নির্দিষ্ট নাম না নিলেও তাঁর বার্তার লক্ষ্য যে অত্যন্ত পরিষ্কার, তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও স্বীকার করছেন। এই নির্বাচন এখন কেবল বিজেপি বনাম বিরোধী জোটের লড়াই নয়, বরং বিজেপির কাছে এটি শৃঙ্খলার লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাঁওতাল পরগনা সফরে থাকা আদিত্য সাহুর এই কড়া অবস্থান দেওঘরের ভোটের সমীকরণকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।