রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমছে ৫০%! ফের কি বাড়বে পেট্রোল-ডিজেলের দাম? জানুন ৫টি পয়েন্টে

আমেরিকার সঙ্গে নতুন বাণিজ্যিক চুক্তির (Trade Deal) ফলে ভারত এখন রাশিয়া থেকে আসা সস্তা অপরিশোধিত তেলের আমদানি প্রায় অর্ধেক কমিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, সস্তা তেলের জোগান কমলে কি সাধারণ মানুষের পকেটে টান পড়বে? পেট্রোল-ডিজেলের দাম কি আকাশছোঁয়া হতে চলেছে? মোদী সরকারের শীর্ষ মহলের বার্তা বিশ্লেষণ করলে উঠে আসছে ৫টি মূল তথ্য:
১. কেন এই কাটছাঁট? মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে নতুন চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ভারত তার পণ্য রফতানিতে ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত ট্যারিফ থেকে মুক্তি পেয়েছে। এর বিনিময়ে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে নয়াদিল্লি। জানুয়ারি মাসে দৈনিক ১২ লক্ষ ব্যারেল রুশ তেল কিনছিল ভারত, যা এপ্রিলে ৪-৫ লক্ষে নেমে আসতে পারে।
২. সরকারি তেল সংস্থাগুলির বর্তমান অবস্থান: ইন্ডিয়ান অয়েল (IOC), বিপিসিএল (BPCL) এবং রিলায়েন্সের মতো বড় সংস্থাগুলি আপাতত রাশিয়ার থেকে নতুন ‘স্পট অর্ডার’ নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। তবে রোসনেফ্ট সমর্থিত ‘নায়ারা এনার্জি’ তাদের কোটা বজায় রাখতে পারে।
৩. অর্থনীতির লাভ-ক্ষতি: বিশেষজ্ঞদের মতে, সস্তা রুশ তেল না পাওয়ায় যে সামান্য ক্ষতি হবে, তার চেয়ে বহুগুণ লাভ হবে আমেরিকার সঙ্গে শুল্কমুক্ত বাণিজ্যে। এতে ভারতের সামগ্রিক অর্থনীতি এবং রফতানি বাণিজ্য আরও মজবুত হবে।
৪. ভারতের ‘প্ল্যান বি’ ও মজুত তেল: কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি জানিয়েছেন, বিশ্ববাজারে জোগান ব্যাহত হলেও ভারতের চিন্তা নেই। ভারতের কাছে ৭৪ দিনের জরুরি ব্যবহারের মতো তেল মজুত আছে। কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভে (ISPRL) এই মুহূর্তে প্রায় ৪০.৯৪ লক্ষ মেট্রিক টন তেল রয়েছে।
৫. মধ্যবিত্তের চিন্তা ও সরকারি আশ্বাস: বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি আশ্বস্ত করেছেন যে, ভারতের জ্বালানি নীতি সম্পূর্ণ জাতীয় স্বার্থ মেনে চলে। তেলের উৎসে বৈচিত্র্য (Diversification) আনা হচ্ছে যাতে কোনো একটি দেশের ওপর নির্ভর করতে না হয়। সরকারের মূল লক্ষ্য হল সাধারণ উপভোক্তাদের সস্তায় এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে জ্বালানি পৌঁছে দেওয়া। তাই আমদানি কমলেও দাম বাড়ার সম্ভাবনা এই মুহূর্তে কম।