আমেরিকার সঙ্গে বড় বাণিজ্য চুক্তি! বাংলাদেশের পণ্যে শুল্ক কমাল ট্রাম্প প্রশাসন, স্বস্তিতে গার্মেন্টস শিল্প

বাংলাদেশের অর্থনীতি ও রপ্তানি বাণিজ্যে বড়সড় সাফল্যের ইঙ্গিত! সোমবার হোয়াইট হাউস থেকে ঘোষণা করা হয়েছে যে, বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ধার্য শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু বস্ত্র ও পোশাক পণ্যের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ শুল্কমুক্তির পথে হাঁটার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ওয়াশিংটন। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত—তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য এক বিশাল আশীর্বাদ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

হোয়াইট হাউসের যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী, গত বছর বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা রোধে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর একসময় ৩৭ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হয়েছিল, যা পরে ২০ শতাংশে নামানো হয়। এবার তা আরও ১ শতাংশ কমিয়ে ১৯ শতাংশ করা হলো। চুক্তির বিশেষ শর্ত অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত তুলা ও কৃত্রিম তন্তু (Man-made fiber) দিয়ে তৈরি নির্দিষ্ট পরিমাণ বাংলাদেশি পোশাক মার্কিন বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। বস্ত্র খাতের বাইরেও অন্যান্য বেশ কিছু পণ্যকে এই সুবিধার আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ডঃ মুহাম্মদ ইউনূস সামাজিক মাধ্যমে এই খুশির খবরটি ভাগ করে নিয়েছেন। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাঁচামাল ব্যবহার করে তৈরি পোশাকে শুল্কমুক্তি বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাতকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অনেক এগিয়ে দেবে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এই শিল্প বড় ধাক্কা খেয়েছিল। লেভি স্ট্রাউস, ভিএফ ক্রপ বা নর্থ ফেস-এর মতো নামী মার্কিন ব্র্যান্ডগুলো বাংলাদেশ থেকে বড় অংকের পণ্য সংগ্রহ করে। নতুন এই চুক্তির ফলে ২০২৪ সালের ৮.৪ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা আরও ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।