গাড়ির ভেতর ৩টি মৃতদেহ, ৩টি মদের গ্লাস আর রহস্যময় এক তান্ত্রিক! পীরাগড়িতে এ কেমন তুকতাক?

দিল্লির পীরাগড়ি এলাকায় একটি গাড়ির ভেতর থেকে তিনজনের নিথর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় রীতিমতো হাড়হিম করা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ঘটনাস্থলে তিনটি মদের বোতল এবং তিনটি গ্লাস পাওয়া গেলেও, গোটা রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে এক তান্ত্রিক বা ‘বাবা’কে কেন্দ্র করে। পুলিশ ইতিমধ্যেই সেই সন্দেহভাজন তান্ত্রিককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।
ঘটনাস্থলের রহস্যময় পরিস্থিতি: মৃতদের পরিচয় মিলেছে—রণধীর, শিব নরেশ এবং লক্ষ্মী। রণধীর ও শিব নরেশ দুজনেই সম্পত্তি ব্যবসার সাথে যুক্ত ছিলেন, অন্যদিকে লক্ষ্মী পেশায় ছিলেন একজন হোম কেয়ার নার্স। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহগুলোর দেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই, তবে শিব ও লক্ষ্মীর মুখে বমির অবশেষ পাওয়া গেছে। এতে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে, মদের সাথে কোনো তীব্র বিষাক্ত রাসায়নিক বা বিষ মিশিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
তান্ত্রিকের যোগসূত্র: তদন্তে জানা গেছে, শনিবার পীরাগড়ি থেকে বের হয়ে এই তিনজন উত্তর-পূর্ব দিল্লির এক তান্ত্রিকের কাছে গিয়েছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজ এবং মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে পুলিশ সেই তান্ত্রিকের ডেরায় পৌঁছায়। অভিযোগ উঠেছে, কোনো বিশেষ সিদ্ধি লাভ বা পারিবারিক সমস্যা সমাধানের জন্য তাঁরা ওই তান্ত্রিকের শরণাপন্ন হয়েছিলেন। ফেরার পথেই কি তবে তাঁদের বিষ খাইয়ে হত্যা করা হলো? না কি এর পেছনে রয়েছে কোনো তান্ত্রিক আচারের বলিদান?
তদন্তে নয়া মোড়: পুলিশ মৃতদেহগুলোর ভিসেরা সংরক্ষণ করেছে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য। লক্ষ্মীর বৈবাহিক জীবন নিয়েও তদন্ত চলছে, কারণ তাঁর দুজন স্বামীর তথ্য সামনে এসেছে। তবে কোনো বাহ্যিক আঘাত না থাকায় এই ট্রিপল ডেথ কেস এখন ‘মিস্ট্রি থ্রিলার’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুলিশ খতিয়ে দেখছে সেই ‘বাবা’র সাথে তাঁদের শেষ কথোপকথন কী হয়েছিল।