১. ভোটের ৭২ ঘণ্টা আগে ইউনূসের অস্বস্তি! হাদি হত্যাকাণ্ড ও আকাশছোঁয়া মুদ্রাস্ফীতি কি নির্বাচনের মোড় ঘুরিয়ে দেবে?

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে এটিই প্রথম নির্বাচন। কিন্তু ভোটের মাত্র তিন দিন আগে দুটি বড় ধাক্কা খেল ইউনূস প্রশাসন। ছাত্রনেতা ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার করে রাষ্ট্রপুঞ্জের (UN) সাহায্য নেওয়া এবং দেশে মুদ্রাস্ফীতির হার ৮.৫৮ শতাংশে পৌঁছে যাওয়া—এই দুই ঘটনা নির্বাচনী সমীকরণকে চরম উত্তেজনার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
হাদি হত্যাকাণ্ড ও রাষ্ট্রপুঞ্জের হস্তক্ষেপ গত ডিসেম্বরে ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হন তরুণ ছাত্রনেতা ওসমান হাদি। সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যুর পর বাংলাদেশ জুড়ে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দেয়। ইউনূস সরকার এই হত্যাকাণ্ডের কিনারা করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত জেনেভায় রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের (OHCHR) কাছে কূটনৈতিক বার্তা পাঠিয়ে ‘নিরপেক্ষ ও দ্রুত’ তদন্তের আর্জি জানিয়েছে। যদিও পুলিশের দাবি ছিল খুনিরা ভারতে পালিয়েছে, কিন্তু বিএসএফ ও মেঘালয় পুলিশ সেই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে হাদির সংগঠন ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ অভিযোগ তুলেছে যে, এই হত্যার পিছনে রাষ্ট্রযন্ত্রের হাত রয়েছে।
আকাশছোঁয়া মুদ্রাস্ফীতি ও ঋণের বোঝা ইউনূস সরকারের জন্য দ্বিতীয় দুঃসংবাদ হলো অর্থনৈতিক সংকট। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সাধারণ মুদ্রাস্ফীতির হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮.৫৮ শতাংশে। বিশেষ করে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি ৮.২৯ শতাংশে পৌঁছে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। একদিকে যখন দেশ ঋণের জালে জর্জরিত, তখন ইউনূস সরকার একের পর এক নতুন প্রকল্প অনুমোদন করে চলেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, হাসিনা সরকারের পতনের পর গত দেড় বছরে প্রায় ২৩০,০০০ কোটি টাকার নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, যার সিংহভাগই বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরশীল।
নির্বাচনে প্রভাবের আশঙ্কা সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা এবং আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞার ফলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আগেই প্রশ্ন ছিল। এখন এই জোড়া সংকট সাধারণ ভোটারদের মনে অনাস্থা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের ফলাফলই বলে দেবে বাংলাদেশের মানুষ ইউনূস সরকারের এই দেড় বছরের কার্যকলাপকে কীভাবে দেখছে।