মাঝরাতে চা খেতে যাওয়াই কাল! বেহালায় ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারালেন ২ হবু ডাক্তার

এক মুহূর্তের অসতর্কতা আর বেপরোয়া গতির বলি হলেন দুই উদীয়মান প্রাণ। গভীর রাতে পড়াশোনার চাপে একটু সতেজ হতে চা খেতে বেরিয়েছিলেন ছয় বন্ধু। কিন্তু সেই চায়ের আড্ডাই যে শেষ যাত্রা হবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি কেউ। দক্ষিণ কলকাতার বেহালা ঠাকুরপুকুর এলাকায় এক ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল জোকা ইএসআই মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের দুই মেধাবী ছাত্রের। মৃতদের নাম আনন্দ প্রিয়দর্শী (২৩) এবং মহম্মদ ফারাজ জামান মল্লিক (২৩)। দুজনেই ওই কলেজের তৃতীয় বর্ষের পড়ুয়া ছিলেন।

কীভাবে ঘটল এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা? পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, রবিবার ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ জেমস লং সরণি ও অপূর্ব পাড়া রোডের সংযোগস্থলে দুর্ঘটনাটি ঘটে। তিনটি বাইকে করে মোট ছয়জন বন্ধু জোকা থেকে বেহালার দিকে যাচ্ছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, প্রিয়দর্শীদের বাইকের ঠিক সামনে থাকা বন্ধুটির বাইক হঠাৎ গতি কমিয়ে ডানদিকে ঘোরার চেষ্টা করে। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রিয়দর্শী সেই বাইকের পিছনে ধাক্কা মারেন এবং ফারাজ সহ দুজনেই রাস্তায় ছিটকে পড়েন। ঠিক সেই সময়ই পিছন থেকে আসা একটি বেপরোয়া ট্রাক তাঁদের পিষ্ট করে দিয়ে চলে যায়।

হেলমেট থাকলেও রক্ষা পায়নি প্রাণ: মৃত আনন্দ প্রিয়দর্শী পাটনার বাসিন্দা ছিলেন, বর্তমানে টালিগঞ্জের একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন। তিনি সম্প্রতি একটি ৪০০ সিসির শক্তিশালী বাইক কিনেছিলেন। তাঁর বন্ধু ফারাজ ছিলেন ভাঙড়ের বাসিন্দা। সহপাঠীদের দাবি, প্রিয়দর্শী খুব সাবধানে বাইক চালাতেন এবং দুজনের মাথাতেই হেলমেট ছিল। কিন্তু ট্রাকের চাকা তাঁদের মাথার ওপর দিয়ে চলে যাওয়ায় হেলমেট খুলে যায় এবং মাথা মারাত্মকভাবে থেঁতলে যায়। তাঁদের উদ্ধার করে জোকা ইএসআই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। ঘাতক ট্রাক ও চালকের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। দুই হবু চিকিৎসকের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে মেডিকেল মহলে।